শুক্রবার

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৫ ১০:৫১

আপডেট: ৩০ জুলাই, ২০২৫ ১১:৫৯

শেয়ার

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক।

দুর্নীতিমূলক, বিদ্বেষমূলক, বেআইনি রায় প্রদানসহ জাল-জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ এ আদেশ দেন।

এদিন কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়৷ শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখান। পরে এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার ও মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

শুনানি শেষে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন৷ তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এর আগে মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক খালেক মিয়া তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে খায়রুল হকের এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এঅবস্থায় খায়রুল হককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবশ্যক।

আগামি ৪ আগস্ট আদালতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর তারিখ নির্ধারিত থাকলেও মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই তারিখ পরিবর্তন করে ৩০ জুলাই গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির আদেশ প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর আদালত খায়রুল হকের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২৭ আগস্ট রাতে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম।

মুজাহিদুল ইসলাম সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ‘জালিয়াতির’ অভিযোগ এনে বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কথায় প্রভাবিত হয়ে অবসরপরবর্তী ভালো পদায়নের লোভে দুর্নীতিমূলকভাবে শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য ২০১১ সালের ১০ মে সংক্ষিপ্ত আদেশটি পরিবর্তন করে বেআইনিভাবে ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।’

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ওই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন রিট আবেদন করেন। সেই মামলার শুনানি করে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। রিট আবেদনকারী ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেন আপিল বিভাগ। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবিএম খায়রুল হক।

ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট দুই মেয়াদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পথ খোলা রেখেছিলেন। কিন্তু ওই বছর সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের সময় ‘জালিয়াতি’ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়িতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৯ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় দেয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা মামলায় তাকে ভার্চুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।



banner close
banner close