জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা ও ঢাকার আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানোর মামলায় আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার সকালে পৃথক প্রিজন ভ্যানে আলোচিত এ দুটি মামলার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পলাতক ২৬ আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। সবশেষ রোববার আলোচিত এ মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ৪ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং বিচার চেয়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
গত ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরবর্তীতে ৩০ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যা আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে গত ২ জুলাই আশুলিয়ায় গণহত্যা ও ৬ জনের লাশ পোড়ানোর মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে ওইদিন পলাতক সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আলোচিত এ মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ রনি, ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক, সাবেক উপ-পরিদর্শক আরাফাত উদ্দীন, সাবেক উপ-পরিদর্শক শেখ আবজালুল হক, সাবেক উপ-পরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। এই ১১ জনের মধ্যে ৮ জন কারাগারে আছেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর বাইরে আরও একজন গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে একজনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে একটি ভ্যানে তোলা হয়। এরপর সেখান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তাদের তুলে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশের গাড়িতে এই ছয়জনকে (যার মধ্যে একজন জীবিত) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
আরও পড়ুন:








