সোমবার

১৮ মে, ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তিন মন্ত্রণালয় ও ছয় দপ্তরে নেই সচিব, আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৫৮

শেয়ার

তিন মন্ত্রণালয় ও ছয় দপ্তরে নেই সচিব, আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ
ছবি সংগৃহীত

গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি সরকারের ছয়টি দপ্তরে এই মুহূর্তে কোনো সচিব নেই। এসব পদে অতিরিক্ত সচিবরা রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। সচিব না থাকায় এসব মন্ত্রণালয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

৬ মাস ধরে সচিব নেই প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে

গত বছরের ৬ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহবুব বেলাল হায়দারকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদকে সেখানে বদলি করা হয়। কিন্তু বদলির এক মাস নয়দিন পর অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে (ছয় মাস) এই মন্ত্রণালয়ে সচিব নেই। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন।

চেয়ারম্যানের কাজ যেমন মেম্বার দিয়ে হয় না, তেমনি সচিবের কাজও রুটিন দায়িত্বে সম্ভব নয়

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের কাজ যেমন মেম্বার দিয়ে হয় না, তেমনি সচিবের কাজও রুটিন দায়িত্বে সম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো ঝুলে থাকে।

৩ মাস ধরে সচিব নেই সমবায় বিভাগে

গত ২৫ মার্চ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিভাগেও পূর্ণ সচিব নিয়োগ করা হয়নি। অতিরিক্ত সচিব মো. ইসমাইল হোসেন রুটিন দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)

২ মাস ধরে টেলিযোগাযোগ বিভাগে সচিব নেই

৩০ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান অবসর গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত সেখানে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম।

আরও ছয় দপ্তরে সচিব নেই

এই তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছাড়াও সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)।এর মধ্যে গত ১৯ জুন একসঙ্গে চার সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তারা হলেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী এনামুল হাসান, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব) সুকেশ কুমার সরকার, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মুহম্মদ ইবরাহিম ও জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মো. সহিদ উল্যাহ।

এছাড়া ২৪ জুন দুদকের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীনকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়।

ডাক ও টেলযোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘প্রশাসনিকসহ সকল কার্যক্রম ঠিক রাখতে সচিবের উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। আমাদের বিভাগ সচিবশূন্য অবস্থায় আছে। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা চাই দ্রুত পূর্ণ সচিব নিয়োগ দেওয়া হোক।



banner close
banner close