সোমবার

১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬ মাঘ, ১৪৩২

বাড়ছে মব তৈরি, হচ্ছে গণপিটুনি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৫ ১০:৪৫

আপডেট: ৪ জুলাই, ২০২৫ ১১:০৯

শেয়ার

বাড়ছে মব তৈরি, হচ্ছে  গণপিটুনি
প্রতীকী ছবি।

বাংলাদেশে গত ছয়দিনে গণপিটুনিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। গেলো ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে পরবর্তী ১০ মাসে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ১৪৩ জন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি বা এইচআরএসএস।

গণপিটুনির সবশেষ ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে রোববার গাজীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে কারখানায় এক শ্রমিককে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। আর গেলো শনিবার রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস এর হিসেব বলছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে গণপিটুনির ১০০৯টি ঘটনায় কমপক্ষে ৮১৬ জন নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত গণপিটুনির ঘটনা নিহত-আহতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। গত ১০ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানসবচেয়ে ভীতিকর' বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণপিটুনির ঘটনাগুলোর মধ্যে কতগুলো ঘটনার বিচার হয়েছে জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, যতদূর মনে পড়ে শুধুমাত্র বাড্ডার রেনু বেগমের মামলাটির বিচার হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ঘটনার বিচার হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না।

বাড্ডায় যা হয়েছিল:

২০১৯ সালের ২০ জুলাই ঢাকার বাড্ডায় স্কুল প্রাঙ্গণে 'ছেলেধরা' গুজবে তাসলিমা বেগম ওরফে রেনু নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেদিন উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাসলিমা তার চার বছরের মেয়েকে ভর্তি করানোর বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী তাকেছেলেধরা' সন্দেহ করেন। এই গুজব দ্রুত বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশ থেকে বিভিন্ন বয়সী কয়েক' নারী-পুরুষ স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন। তাদের মারধর থেকে রক্ষা করতে তাসলিমাকে স্কুলের দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে রাখা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট ভেঙে দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যান। তারা তাসলিমাকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে পেটাতে শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা নির্যাতনের পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাসলিমা। ঘটনায় তাসলিমার ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচ' ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০২১ সালের এপ্রিল ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত বছরের অক্টোবর এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আট আসামি। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম হৃদয় ইসলাম মোল্লা ওরফে ইব্রাহীম ওরফে নয়ন মোল্যা। তিনি আগে থেকেই কারাগারে আছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, রিয়া বেগম আসাদুল ইসলাম। এই চারজন জামিনে ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

কুমিল্লায় তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা:

কুমিল্লার মুরাদনগরে বৃহস্পতিবার একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা থানার আকবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- রুবি বেগম (৫৮), তার ছেলে রাসেল (৩৫) মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৭) এই ঘটনায় আহত অপর মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা যেটা জানতে পেরেছি, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারটি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের একটা বিরোধ ছিল। এর প্রেক্ষিতেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

কেউ কি মবের মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে? জানতে চাইলে ওসি বলেন, অবশ্যই না। এজন্য আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছি। পুলিশ পৌঁছার আগেই ঘটনাটি ঘটে গেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন থেকে চার দিন আগে একটি মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে রুবি আক্তারের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয়দের ঝগড়া হয়। সে সময় রুবি তার ছেলে বেশ কয়েকজনকে মারধর করেন। ঘটনার সূত্র ধরেই কড়ইবাড়ি গ্রামে বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে রুবির বাড়িতে হামলা করে। ওই পরিবারের চার জনকে বেদম মারধর করে। সময় ঘটনাস্থলেই রুবি, তার মেয়ে জোনাকি ছেলে রাসেল নিহত হয়। রুবির অপর মেয়ে রুমাকে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসা প্রতারণা করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা রুবি তার পরিবারের প্রতি গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ ছিল। তার (রুবি) বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও সরকারি খাল দখল করে তার বিরুদ্ধে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে অনেকদিন ধরে তাদের উপর ক্ষুব্ধ ছিল মানুষ।

উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, খোঁজ নিয়ে যতটুকু শুনেছি নিহত পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে সকালে ওই পরিবারের সদস্যকে গণপিটুনি দেন। এতে তিনজন ঘটনাস্থলে মারা যান। একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পিটুনিতে মৃত্যুর আরও কিছু ঘটনা:

গত রবিবার গাজীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে কারখানায় এক শ্রমিককে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারধরের ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ার পর কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হলেও জড়িত কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই ঘটনায় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার ভোরের দিকে গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ীতে গ্রিনল্যান্ড লিমিটেড নামের কারখানায় ওই ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিক হৃদয় (১৯) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শুকতার বাইদ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি কারখানাটিতে মেকানিক্যাল মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।

গত শনিবার বেশ কয়েকজন মিলে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে কিছু যুবক ধারালো অস্ত্রসহ ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তারা পথচারীদের ছিনতাই করত, বাসার দরজায় নক করত, নারীদের উত্ত্যক্ত করত এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেছিল। ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনজন ধারালো অস্ত্রধারী যুবক আবারও এলাকায় আসে। স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে গণপিটুনি দিলে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের নাম তোফাজ্জল হোসেন। চোর সন্দেহে একদল ছাত্র তাকে দফায় দফায় মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর কথা জানান। হল কর্তৃপক্ষ তোফাজ্জলকে প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিমের কাছে হস্তান্তর করার পর টিমের সদস্যরা তোফাজ্জলকে হাসপাতালের পরিবর্তে প্রথমে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান। এরপর পুলিশের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তোফাজ্জলকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদের দাবি, হলে শিক্ষার্থীদের খেলা চলার সময় কয়েকজনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। শিক্ষার্থীরা তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে আটক করে বেধড়ক মারধর করে।

মব তৈরির ঘটনা:

সম্প্রতি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে ধরে এনে মবের নামে গলায় জুতোর মালা পরানো হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজনকে নুরুল হুদার মুখে জুতা দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে। তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই ঘটনাগুলোকে 'মব' বলতে রাজি নন। তার মতে, এগুলো জনরোষ। তার এমন বক্তব্য একধরনের 'উসকানি' বলে সমাজিক মাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে দেশে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। সরকার মুখে শক্ত কথা বললেও কার্যত এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি যে কারণে মানুষ ভয় পাবে। ফলে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দেখাতে হবে যে তারা ব্যাপারে মুখে নয়, কাজে শক্ত।

পটিয়ায় ওসি প্রত্যাহার:

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পটিয়া শহীদ মিনার এলাকা থেকে রাঙামাটির একজন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে চট্টগ্রামের পটিয়া থানায় নিয়ে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। থানায় গিয়ে ওই নেতাকে গ্রেপ্তার দেখাতে বলেন তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা থানা চত্বরে ওই নেতাকে 'মারধরের চেষ্টা করলে' পুলিশ বাধা দেয়। এসময় উত্তেজনার মধ্যে পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে বিষয়টি আইন অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিক্ষুব্ধরা পুলিশের ওপর চওড়া হয় এবং থানার জানালার আয়না ভাঙচুর করে। এর প্রতিবাদে সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে থানা ঘেরাওয়ের কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা। পরদিন অর্থাৎ বুধবার সকালে পটিয়া থানা ঘেরাও করা হয়। বিক্ষোভকারীরা বাইপাস এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। এছাড়া পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারসহ দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

এক পর্যায়ে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বুধবার রাতে পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না? জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন বলেন, সরকার আন্তরিক হলেও এখানে দুর্বলতার পরিচয় দিচ্ছে। আমরাও বারবার বলেছি, সরকারকে ব্যাপারে আরো কঠোর হতে হবে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনেকেই অভিযোগ করছেন, এনসিপি বিকল্প সরকার হিসেবে কাজ করছে। তারা যে দাবি করছে, সরকার সেটা মেনে নিচ্ছে। এই অভিযোগের ব্যাপারে মনিরা শারমিন বলেন, এটা একেবারেই ভুয়া কথা। বরং সরকার বিএনপির দাবির প্রতি অনেক বেশি মনোযোগী। একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা যা বলছেন সরকার সেটা শুনছে। এমনকি অধিকাংশ থানার ওসি, ইউএনও তো বিএনপির কথায় উঠছে, বসছে। অনেকে আবার বিএনপি পরিবারের সদস্য বলে নিজেদের পরিচয় সামনে আনার চেষ্টা করছেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কেউ কোনো দাবি নিয়ে যমুনার সামনে গেলেই সরকার সেটা মেনে নিচ্ছে। ফলে তারা তো বেপরোয়া হবেই। অন্যদিকে একজন উপদেষ্টা অস্ত্রের গুলি নিয়ে বিমানবন্দরে চলে যাচ্ছেন। সেখানেও কোনো আইন মানা হচ্ছে না। আবার তিনি বলছেন, আগস্ট সরকারের পতন না হলে আমরা অস্ত্র তুলে নিতাম। এখানে শব্দটা বলেছেনআমরা' বিষয়ে কি সরকার কোনো খোঁজ খবর নিয়েছে? তাহলে আইনের শাসন আপনি কীভাবে প্রতিষ্ঠা করবেন? এমন ঘটনা তো ঘটতেই থাকবে।

পাটগ্রামে থানায় হামলা করে আসামি ছিনতাই:

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা পাওয়া দুই আসামিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সময় পুলিশের সঙ্গে একদল লোকের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনার পর থেকে থানার সামনে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামি হলেন- পাটগ্রাম উপজেলার মমিনপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে বেলাল হোসেন (৩৩) এবং একই উপজেলার মির্জারকোট গ্রামের সামসুল হকের ছেলে সোহেল রানা চপল (৩৫) তারা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে জানা গেছে।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার দাস বলেন, বুড়িমারী-রংপুর মহাসড়কে বিভিন্ন পাথর বালু বোঝাই ট্রাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে উপজেলার সরেয়ার বাজার এলাকায় অভিযান চালনো হয়। সময় চাঁদাবাজির অভিযোগে বেলাল সোহেলকে আটক করা হয়। ছাড়া তাদের কাছ থেকে চাঁদার লক্ষাধিক টাকা জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাসিয়ে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় বলে জানান তিনি।

পাটগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ওই দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতেই একদল লোক পাটগ্রাম থানার সামনে জড়ো হয়। যাদের অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সময় কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ারসেল রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা থানায় ঢুকে কিছু জিনিসপত্র ভাঙচুর করে দুই আসামিকে নিয়ে চলে যায়।

আসামি ছিনতাই থানায় হামলার ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত ছিল না বলে দাবি করেছেন পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম। সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বাংলা এডিশন। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।



banner close
banner close