চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা সাম্প্রতিক ‘শাটডাউন’ এবং ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।
একইসঙ্গে কমিশনার জাকির হোসেন ও ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বড় অংকের ঘুষ লেনদেন ও শুল্ক ফাঁকিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতার সহযোগিতায় আমদানি পণ্যের প্রকৃত মূল্যে গরমিল করে বিপুল অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়। গত ১০ নভেম্বর দাখিল করা একটি বিল অব এন্ট্রির (নং ২০৮০০৭২) মাধ্যমে ‘চকলেট’ আমদানির ক্ষেত্রে ইনভয়েস জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে প্রকৃত মূল্য প্রায় ১.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও তা কমিয়ে মাত্র ৪৬ হাজার ডলার দেখানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই অনিয়মের তদন্তে কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগও যুক্ত থাকলেও পরে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তা ‘মীমাংসা’ করা হয়। তদন্ত না করে কেবল মূল্য সংশোধনের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি ছাড় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মিনহাজ উদ্দিন এবং কমিশনার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ছাড়া, এই চক্রের সঙ্গে আওয়ামী রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা এবং প্রশাসনিক বদলি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশনার জাকির হোসেন নিজ উদ্যোগে ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামকে রংপুর থেকে চট্টগ্রামে বদলি করান।
সরকার যখন রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলায় নতুন ভ্যাট আরোপসহ বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন এ ধরনের শুল্ক ফাঁকির ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এনবিআরের পক্ষ থেকে বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








