ই-কমার্স প্রতারণার অন্যতম আলোচিত নাম ‘ই-অরেঞ্জ’ এর সিওও এবং ঢাকা জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আমানুল্লাহ চৌধুরীর দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ৩৪ নম্বর আদালতের বিচারক জিয়া উদ্দিন আহমেদ এই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে, শুক্রবার আমানুল্লাহ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।
৫ আগস্টের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা ও আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠজন ছাড়াও দেশজুড়ে আলোচিত ই-অরেঞ্জ প্রতারণা মামলার মূলহোতা হিসেবে পরিচিত আমানুল্লাহ চৌধুরী।
জানা গেছে, আমানুল্লাহ চৌধুরী ই-অরেঞ্জ নামের একটি হায় হায় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ১শ’ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেন। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৫৪টি মামলা রয়েছে। প্রতারণা মামলায় একাধিকবার জেল খাটলেও, জামিনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে ছিলেন তিনি। শুধু প্রতারণা নয়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর হিসেবেও পরিচিত আমানুল্লাহ। ২০২৪ সালের জুলাই মাস জুড়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়, আমানুল্লাহ চৌধুরী ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার আওয়ামী যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থ সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, এ্যালিফেন্ট রোডের অফিসে তৎকালীন আইএস পিআর এর আওয়ামী সরকার ঘনিষ্ঠ একদল অফিসারের সহযোগিতায় 'শেখ হাসিনাতেই আস্থা' নামক একটি প্রচার সেল গঠন করা হয়। যাদের, একমাত্র কাজ ছিলো ছাত্রজনতার আন্দোলন বিরোধী প্রচার প্রচারণা চালানো।
তদন্তে উঠে এসেছে, ই-অরেঞ্জের ১,১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমান উল্লাহ তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের ছত্রছায়ায় পরিকল্পিতভাবে জেলে থাকার নাটক করেন। উদ্দেশ্য ছিল, জনসচেতনতা ও তদন্তকে বিভ্রান্ত করে আত্মসাৎকৃত অর্থ গোপন করা।
আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে, আওয়ামী দালালখ্যাত এই প্রতারকের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি, আমানুল্লাহর কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ দ্রুত ফেরতের দাবি সবার।
আরও পড়ুন:








