সোমবার

১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬ মাঘ, ১৪৩২

ভাঙা হয়েছে বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’, হবে জুলাই স্মরণে ‘গণমিনার’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৫ ০৭:৪৩

শেয়ার

ভাঙা হয়েছে বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’, হবে জুলাই স্মরণে ‘গণমিনার’
বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বিজয় সরণিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি ভাঙা হয় গত বছরের আগস্ট, যেদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এবার সেই ভাস্কর্য ঘিরে থাকা ম্যুরালসহ মোট সাতটি দেয়ালও ভেঙে ফেলেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)

মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণনামে এই ম্যুরালের জায়গাটিকে উন্মুক্ত স্থান করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। তবে এরই মধ্যে সেখানেগণমিনারনির্মাণ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেইমৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনামৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর উদ্বোধন করেন। এই প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় চিত্রিত সাতটি দেয়াল ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে পুরো এলাকা একপ্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সর্বশেষ, আজ সেই প্রাঙ্গণের বাকি অংশে সাতটি দেয়ালসহ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণপ্রতিরোধ আত্মত্যাগের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে রাজধানীর বিজয় সরণিতেগণমিনারনির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়ে গত ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেগণমিনার বাস্তবায়ন কমিটিএই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। কমিটি জানায়, গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেগণচাঁদা সংগ্রহকর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন প্রায় হাজার ৪০০ জন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতেই নির্মিত হচ্ছে গণমিনার। তিনি আরও জানান, আগামী আগস্টের মধ্যেই এর একটি দৃশ্যমান রূপ প্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিটির।

গণমিনার নির্মাণ কমিটির আরেক সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলম শুক্রবার বিষয়ে বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় শুধু একটি স্মারক নির্মাণ নয়, বরং পুরো বিজয় সরণি এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়িত হবে।



banner close
banner close