সোমবার

১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫ মাঘ, ১৪৩২

শেখ হাসিনার আইনজীবী পরিবর্তন করলেন ট্রাইব্যুনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৫ ১৪:২৫

শেয়ার

শেখ হাসিনার আইনজীবী পরিবর্তন করলেন ট্রাইব্যুনাল
ছবি: সংগৃহীত

আদালত অবমাননার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া আইনজীবী আমিনুল গনি টিটুর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৮ এর সাবেক বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী আমির হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।

এর আগে জুলাই-আগস্টে সারাদেশে চালানো গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আইনজীবী আমির হোসেনকে মঙ্গলবার নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৯ জুন শেখ হাসিনা এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটুকে স্টেট ডিফেন্স নিযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ওইদিন আদালত অবমাননার এই মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। আজকে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়

আজ শুনানিতে শুরুতেই অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান বলেন, 'এখানকার বিষয়গুলো নতুন। একটু দেখতে হবে। ২ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। পরে আদালত আগামী বুধবার দিন ধার্য করেন।'

শুনানিতে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু বলেন, আমি প্রসিকিউশনের বক্তব্যের পর আমি বলব। ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আমরা কিছু অ্যাডভান্স তথ্য পেয়েছি। আপনি এই ক্লায়েন্ট সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আপনি বলেছেন, শেখ হাসিনার ফাঁসি চান। এরপর তাঁকে আর রিপ্রেজেন্ট করতে পারেন না। এটা নৈতিকতার প্রশ্ন।’

আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু বলেন, ‘আমাকে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছেন। আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমি আমার ক্লায়েন্টকে রিপ্রেজেন্ট করব। আমি প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। আমার ৩৬ বছরের পেশাগত জীবনে অসততা নেই।’

ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি এমন লেখা লিখেছেন? আইনজীবী আমিনুল গনি বলেন, ‘হ্যাঁ লিখেছি। তবে সেটা ৫ আগস্ট সকালে। সেটি আমার ব্যক্তিগত বিষয়। পেশার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। মামলার বিষয়ে আমি সৎ।’

এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘ন্যায় বিচারের প্রশ্নে আপনি এটা করতে পারেন না।’ আদেশের পর জানতে চাইলে ‘কিছুটা অসম্মানিত’ বোধ করছেন বলে জানান আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু।

১৯ জুন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, বিচারের স্বচ্ছতার স্বার্থে এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি ও পলাতকদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গাইবান্ধার আওয়ামী লীগ নেতা শাকিল আহমেদের মধ্যে কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হলে গত ৩০ এপ্রিল তাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা চান ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের হাজির হয়ে বা আইনজীবীর মাধ্যমে কথোপকথনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। ২৫ মে নির্ধারিত তারিখে তাঁরা হাজির হননি কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমেও ব্যাখ্যা দেননি। পরে দুই আসামিকে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। নির্দেশ অনুযায়ী দুটি সংবাদপত্রে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এরপরও তারা হাজির হননি।



banner close
banner close