২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের মাছিমপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হন সাইদুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি। এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি ও বিএসএফ কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিএসএফের গুলিতে আল আমিন নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। ৬ মাস আগে বিয়ের পিড়িতে বসা আল আমিন সীমান্তের কাছে গরু আনতে গেলে গুলিবিদ্ধ হন।
এদিকে ১৬ এপ্রিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি যুবক হাসিবুল আলম। সীমান্তের ৮৯৪ নম্বর মেইন পিলারের সাব পিলার ছয় এস-এর কাছে হাসিবুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিএসএফ সদস্যরা তাকে ভারতে নিয়ে যায়। ৩৬ ঘণ্টা পর বিজিবির কাছে হাসিবুলের মরদেহ হস্তান্তর করে বিএসএফ।
শুধু সাইদুল ইসলাম, আল আমিন কিংবা হাসিবুলই নয়, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে শুধু সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এবং নির্মম শারীরিক নির্যাতনের পর প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০৪ জন বাংলাদেশি। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩১৬ জন। এ ছাড়া অপহরণের শিকার হয়েছেন অন্তত ২০৯ জন বাংলাদেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং‘বর্ডার ভায়োলেন্স নিয়ে শক্ত অবস্থান না থাকায় সীমান্ত নিয়ে পৃথক আইন থাকার পরও এসব অপ্রয়োজনীয় হত্যাকাণ্ড একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ ও ভারতের দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া এ সমস্যা সমাধানের বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন:








