ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনীভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে আইপিও অনুমোদন করে সরকারি বেসরকারি ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে বিদেশে পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ১ সেপ্টেম্বর গঠিত অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির দাখিল করা অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিএসইসি গত ১৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের মান্ডি লন্ডারিং তদন্তের ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে চিঠিও দিয়েছে।
বিএসইসি’র অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান ও হোটেল লা মেরিডিয়ান এর মালিক আমিন আহমেদ এবং তার পুত্র কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান আহমেদ, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পালকপুত্র নাফিস শরাফত, চেয়ারম্যান রেস ম্যানেজমেন্ট পিসিএল এবং হাসিনার চাচা শেখ কবির হোসেন, বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইতুল ইসলাম এবং কয়েকজন কমিশনারের যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনীভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে আইপিও অনুমোদন করে সরকারি বেসরকারি ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে বিদেশে পাচার ও আত্মসাৎ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধি বিধান লঙ্ঘনপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় রাষ্ট্রায়াত্ত্ব চারটিসহ ৫টি ব্যাংক থেকেই সহ¯্রাধিক কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বেস্ট হোল্ডিং। এতে বলা হয়, জেনেশুনে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
তদন্তে আরো দেখা যায় যে, সিএ ফার্ম এর পরস্পর যোগসাজসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি ও মিথ্যে তথ্য দিয়ে বেস্ট হোল্ডিংস লি. এবং হোটেল লা মেরিডিয়ানসহ এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির উচ্চমূল্য দেখিয়েছে। এই অপরাধে সিএ ফার্মটি ও তাদের একাধিক অংশীদারকে ৩ বছরের মধ্যে কোন কোম্পানির ভেল্যুয়েশন করতে পারবে না মর্মে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
আমিন আহমেদের মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন- বেস্ট সার্ভিসেস লি., ক্যাপিটাল বনানী ওয়ান লি., ধানসুর ইকোনোমিক জোন লি. এর বিরুদ্ধে বিস্তর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিএসইসি’র অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের মান্ডি লন্ডারিং তদন্তের ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে চিঠি দেয়। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড এর অনিয়ম দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দুদকের একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন দিলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:








