শনিবার

২০ জুন, ২০২৬ ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আটকে দুই বাংলাদেশির আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ০৭:৫৭

শেয়ার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আটকে দুই বাংলাদেশির আকুতি
ছবি সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে আটকে থাকা দুই বাংলাদেশি যুবক দেশে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন। উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে ধারণ করা তাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার বাসিন্দা আরমান আলী ও মাইনউদ্দিন নিজেদের পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তাদের দাবি, ড্রোন কোম্পানি ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়া হলেও কয়েক দিনের প্রশিক্ষণের পর সরাসরি যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।

ভিডিও বার্তায় আরমান আলী জানান, তাদের ১৬ সদস্যের ক্যাম্পের ১২ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে চারজন জীবিত রয়েছেন এবং তারা সবাই আহত অবস্থায় আছেন। আহত হয়ে ফিরে আসার পরও পুনরায় যুদ্ধে অংশ নিতে চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে সম্মত না হওয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং কয়েক দিন বাংকারে আটকে রেখে খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।

আরমান আলী আরও বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন। তার পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি ও তার সহযাত্রীরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার হয়ে দেশে ফিরতে চান।

ভিডিওটি প্রকাশের পর আরমানের পরিবারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, দুই দিন আগে ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ তার কথা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে রাশিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, দূতাবাস থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায় চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তবে তার বিশ্বাস, চাপ প্রয়োগ করে তাদের দিয়ে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে ছেলের আটকে থাকার খবর জানার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক কষ্টে রয়েছেন। বিশেষ করে আরমানের মা উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী কন্যার নাম আরশি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, বিষয়টি তার জানা হয়েছে। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করবেন।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আফসানা তাসলিম বলেন, পরিবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দুই বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে, পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে তাদের স্বজনরা জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারবেন।



banner close
banner close