শনিবার

১৩ জুন, ২০২৬ ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইতালিতে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন আইন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ০৮:৩৯

শেয়ার

ইতালিতে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন আইন
ছবি সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে নতুন রি-ইমিগ্রেশন ডিক্রি কার্যকর করেছে ইতালি সরকার। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই আইন নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন ডিক্রি অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইতালিতে প্রবেশকারীদের বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার বা বর্ডার ক্যাম্পে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখা যাবে। এই সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও আশ্রয় আবেদন মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে। আবেদন বাতিল হলে তাৎক্ষণিকভাবে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এই বিধান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডাবলিন রেগুলেশনের আওতায় যারা অন্য ইউরোপীয় দেশে প্রথম নিবন্ধিত হয়ে পরবর্তীতে ইতালিতে এসেছেন, তাদের দ্রুত সেই দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি তৃতীয় নিরাপদ দেশ নীতির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এই ডিক্রিতে। কোনো আশ্রয়প্রার্থী নিরাপদ বলে বিবেচিত কোনো দেশ হয়ে ইতালিতে প্রবেশ করলে তার আবেদন গ্রহণ না করে সেই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এ লক্ষ্যে উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ও আলবেনিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করছে ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

শিশুসহ পরিবারের ক্ষেত্রে আলাদা পারিবারিক কেন্দ্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী শিশুর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে একা প্রবেশকারী অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দীর্ঘমেয়াদি আটক, দ্রুত ডিপোর্টেশন ও সীমান্তে কঠোর নীতি আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। যুদ্ধ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির এই নতুন ডিক্রি কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিতে নয়, পুরো ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।



banner close
banner close