মঙ্গলবার

১৯ মে, ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬ ১৩:২৭

শেয়ার

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যাম্পবেলটাউনের একটি বাড়ি থেকে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মো. শোমন আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৮ মে)। রাত ৮টার কিছু আগে রেমন্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে জরুরি নম্বরে ফোন আসে। পরে পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৬ বছর বয়সী এক নারী এবং চার ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৭টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকেই মো. শোমন আহমেদকে আটক করা হয়। বাংলাদেশি কমিউনিটির সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিল।

জানা গেছে, পরিবারের বাবা ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন, আর মা চাকরি করতেন। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।,

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে মামলাটি, সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয়। তবে অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং জামিনের আবেদনও করেননি। আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তার জামিন নামঞ্জুর করেছে। আগামী ১৫ জুলাই তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।

অভিযুক্তের আইনজীবী জাওয়াদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তার মক্কেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে নিহতদের পরিবার ও পুরো কমিউনিটির প্রতি সমবেদনা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারটি ছিল অনেকটাই নিরিবিলি ও নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রতিবেশীরা জানান, তাদের খুব বেশি সামাজিক মেলামেশা ছিল না।

পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধস্থল। নারী ও দুই শিশুর মরদেহ বাড়ির আলাদা অংশে পাওয়া গেছে। অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মোরোনি বলেন, নিহতদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস।

তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল না এবং তিনি পুলিশের নজরেও ছিলেন না।

স্থানীয় এমপি ডা. মাইক ফ্রিল্যান্ডার এ ঘটনাকে ‘জাতীয় ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু স্থানীয় কমিউনিটির নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়ার জন্যই এক মর্মান্তিক ঘটনা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরো আবাসিক এলাকাটি ঘিরে রেখে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তদন্ত চালান। একই সময়ে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ প্রতি তিন মিনিটে একটি করে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনার সাড়া দিয়ে থাকে।



banner close
banner close