মালয়েশিয়ার কেদাহ ও জোহর রাজ্যে পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ১৩৪ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এর মধ্যে ৮৮ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) কেদাহ রাজ্যের কুলিম ও কোটা সেতার এলাকা এবং জোহর রাজ্যের মুয়ার জেলায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে বিভাগের ২৩ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। গোপন তথ্য ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি স্থাপনায় তল্লাশি চালিয়ে ১২০ জন স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিককে যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ৯১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন ৭১ জন বাংলাদেশি পুরুষ ও একজন বাংলাদেশি নারী। এছাড়া ছয়জন থাই পুরুষ, চারজন থাই নারী, তিনজন চীনা পুরুষ, চারজন পাকিস্তানি পুরুষ এবং দুইজন ইন্দোনেশীয় পুরুষ রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৫ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে। তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য দুটি সাক্ষী সমনের নোটিশও জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জোহরের মুয়ার জেলায় ছয়টি আসবাবপত্র কারখানা ও শ্রমিক আবাসনে অভিযান চালিয়ে ৪৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে।
জোহর ইমিগ্রেশনের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, মুয়ার, সেগামাত ও বাতু পাহাত শাখার সমন্বয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় কয়েকজন শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করেন এবং কারখানার ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সব বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিলে তারা পালাতে পারেননি।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন বাংলাদেশি কিশোরী, একজন পাকিস্তানি পুরুষ, আটজন মিয়ানমারের পুরুষ, আটজন নেপালি পুরুষ, পাঁচজন চীনা পুরুষ, তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী, একজন ইন্দোনেশীয় কিশোরী এবং একজন মিয়ানমারের নারী।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৪ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। তাদের পন্টিয়ানের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের আশ্রয় বা আড়াল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করেছে জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ।
আরও পড়ুন:








