মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের আয় কমে গিয়ে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্মসংস্থানে স্থবিরতা ও ব্যয় বৃদ্ধি তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আবুধাবি ও দুবাইসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা ও পর্যটন খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে ট্যাক্সিচালকদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং নির্মাণ ও পরিচ্ছন্নতা খাতে কর্মরত অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। আউটডোর কাজের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর থেকে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে চলে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে কয়েকজন বাংলাদেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
দুবাই ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরতদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রকল্প কমে যাওয়ায় বিভিন্ন খাতে কর্মী ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক ছুটির ঘটনা ঘটছে। ফলে অনেকের আয় কমে গেছে এবং নিয়মিত বেতন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাভাড়া, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীদের জন্য জীবনধারণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এ দেশ থেকে আসে।
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রবাসীদের আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:








