শনিবার

৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২১ চৈত্র, ১৪৩২

রাষ্ট্রদূত রেজিনা ও কাউন্সেলর দিনাকে দ্রুত দেশে ফেরানোর আহ্বান পর্তুগাল প্রবাসীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৪ ১৩:১৮

শেয়ার

রাষ্ট্রদূত রেজিনা ও কাউন্সেলর দিনাকে দ্রুত দেশে ফেরানোর আহ্বান পর্তুগাল প্রবাসীদের

পর্তুগালে বাংলাদেশ মিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রবাসীদের অভিযোগের শেষ নেই। প্রথমত বাংলাদেশ সরকারের বিশাল একটি সম্পত্তিকে রীতিমতো গোয়ালঘর বানিয়ে রেখেছেন রাষ্ট্রদূত রেজিনা আহমেদ এবং কাউন্সেলর লাইলা মুনতাজেরী দিনা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোন বালাই নেই পুরো মিশনে আর কনস্যুলার সেবা নিতে গেলে প্রবাসীদের হয়রানির আদেশও দেন এই দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

গত ১ বছরের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে আছেন রেজিনা আহমেদ। দু:খজনক হলেও সত্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে রেজিনা আহমেদ পর্তুগালে চরমভাবে ব্যর্থ। শুধু কূটনৈতিকভাবেই নয়, বরং একটা মিশন চালাতেও সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ তিনি।

জানা গেছে, ওনার কূটনীতিক জীবনের একমাত্র সাফল্য মরিশাসে শেখ মুজিবের নামে একটা গলির নামকরণ করতে পারা। আর সেই সাফল্যের কারণেই পর্তুগালের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনের দায়িত্ব পান রেজিনা আহমেদ। আর সেখানেই অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন রেজিনা আহমেদ।

পর্তুগাল বাংলাদেশ মিশনের সেকেন্ড ইন কমান্ড কাউন্সেলর লাইলা মুনতাজেরি দিনা। পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের অর্গানোগ্রামে কাউন্সেলরের কোন পোস্ট না থাকলেও ঠিকই এ পদে এসেছেন দিনা।

ফ্যাসিস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদকে বিশাল অঙ্কের অর্থ ঘুষ দিয়ে তার এই পোস্টিং করান দিনার স্বামী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ৪ শাখার উপসচিব মো: আবু আওয়াল। এই আবু আওয়ালের বিরুদ্ধেও রয়েছে সরকারি অর্থ চুরি ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপসচিব থাকাকালীন করেন নানা দুর্নীতি। দুদকের তদন্তও চলমান আছে তার বিরুদ্ধে।

এসব ছাড়াও রাষ্ট্রদূত রেজিনা আহমেদ ও কাউন্সেলর লাইলা মুনতাজেরী দিনাকে নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ পর্তুগাল প্রবাসীদের।

এরই মধ্যে ১ অক্টোবর রাষ্ট্রদূত রেজিনা আহমেদকে ঢাকায় ফিরে যেতে আদেশ জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও ১৬ই ডিসেম্বর উনার পিআরএল শুরুর আগে তিনি ফিরছেন না বলে কমিউনিটি প্রতিনিধিরা বলে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন তিনি অংশ নিচ্ছেন নানা অনুষ্ঠানে। তিনি কয়েক দিন বেশি থাকতে করছেন নানা ষড়যন্ত্র।

সাবেক সচিব এম মাহফুজুল হককে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এগ্রিমো চাওয়ার আগে সুনির্দিষ্টভাবে দেশের নাম উল্লেখ করার বিষয়টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমেই পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে বলে জানা গেছে । আর সেজন্যেই নতুন রাষ্ট্রদূতের ‘এগ্রিমো’ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছ।

রেজিনা আহমেদের নির্দেশে এই ষড়যন্ত্রের পেছনে হাত রয়েছে দূতাবাসের রিসিপশনিস্ট আনারের। সেই বিভিন্ন চ্যানেলে পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এই পরিস্থিতির তৈরী করেছে।

রেজিনা আহমেদ এবং কাউন্সেলর দিনার নির্দেশে প্রবাসীদের ইচ্ছাকৃত ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে প্রতিদিন। যে পরিস্থিতি উনারা তৈরী করেছেন সে পরিস্থিতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক প্রবাসীর পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন গ্রহন না করা, কনস্যুলার সেবা দিতে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি করার মতো নানা ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।

নতুন রাষ্ট্রদূতের আসা বিলম্বিত হলে এবং রেজিনা আহমেদ ও কাউন্সেলর দিনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে না নিলে সামনে পর্তুগালে থাকা ৫০ হাজারের বেশি প্রবাসীর ভোগান্তির কোন শেষ থাকবে না।



banner close
banner close