মঙ্গলবার

২৩ জুন, ২০২৬ ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের আটকের মাস্টারমাইন্ড যুবলীগ নেতা আনোয়ার

প্রতিনিধি, সৌদি আরব

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৪:১৫

আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৪:৩৩

শেয়ার

আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের আটকের মাস্টারমাইন্ড যুবলীগ নেতা আনোয়ার
ওমান প্রবাসীদের আটকের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই আনোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশ তখন বিক্ষোভে উত্তাল। দেশের ভাই-বোনদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে আসেন আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশীরা। দেশটিতে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ জেনেও, গত ২০ জুলাই প্রকাশ্যে স্লোগান দেন তারা।

ঘটনার জেরে পরবর্তীতে ৫৭জন বাংলাদেশীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলে পাঠায় দেশটির আদালত। পাঁচ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর, উদ্যোগ নেয়া হয় শাস্তি পাওয়া প্রবাসীদের সাজা মওকুফের।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের উদ্যোগে মুক্তি পান সাজা পাওয়া ৫৭জন বাংলাদেশী আমিরাত প্রবাসী। ইতোমধ্যেই দুই দফায় ৪২ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন মুক্তির পর।

বন্দিদের মুক্তির পর, সেখানকার প্রবাসীরা আনোয়ার হোসেন নামের এক স্থানীয় যুবলীগ নেতার শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রবাসীদের আটকের এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সালালাহ সানুদ সার্ভিস সেন্টারের পরিচালক আনোয়ার।

২০ জুলাই যেখানে প্রবাসীরা মিছিল করেন, সেটি ছিলো বাংলাদেশী শ্রমীকদের বসবাসের আবাসিক এলাকা। কোনো দূর্ঘটনা না হলে ওই এলাকায় স্বাভাবিকভাবে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বাহিনীর প্রবেশের কথা নয়। এমন যুক্তি টেনে প্রবাসীরা অভিযোগ করেন, সেদিন বিক্ষোভে অংশ নেয়াদের মধ্যে কমপক্ষে ১৬ জনের পরিচয় স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি, ঘটনাস্থলে পুলিশকে ডেকেও আনেন আনোয়ার।

আনোয়ার তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেন আন্দোলকারীদের। অংশ নেয়াদের মধ্যে যাদের চিনতে পারেন, তাদের পরিচয়সহ বিস্তারিত তালিকা পাঠান আমিরাতের প্রশাসনের কাছে। এরপর তালিকা অনুযায়ী একে একে গ্রেফতার করা হয় সবাইকে।

ওই এলাকায় বসবাসরত প্রবাসীরা বাংলা এডিশনকে জানান, শাস্তির দাবি জানানোর পর তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে আনোয়ার। সেইসঙ্গে, নতুন করে মামলা দেয়ার ভয়ও দেখান তিনি।

প্রবাসীরা তার ভয়াবহতা সম্পর্কে এসময় আরও জানান, আরব আমিরাতে বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নানা অনিয়ম করে আসছেন আনোয়ার। দূতাবাসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত তিনি, এমন অভিযোগও করেন প্রবাসীরা।

এ ছাড়া, প্রবাসীদের পাসপোর্ট আটকিয়ে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে আনোয়ারের বিরুদ্ধে।

আনোয়ারসহ দূতাবাসের যেসব কর্মকর্তারা নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

বাংলা এডিশন খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত আনোয়ারের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। ওই জেলার কবিরহাট উপজেলার বাটিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর চন্দ্রশুদ্ধি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার পুরো পরিবারই আওয়ামি লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।



banner close
banner close