ধমনিতে ব্লকেজ বা চর্বি জমে রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, যা হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। করোনারি ধমনি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে হৃৎপিণ্ডের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক জীবনযাত্রা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
কারণ আপনার শরীরে ক্রমাগত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেয়ার যে কাজ হার্ট করে চলেছে, তার পুরোটাই হচ্ছে ধমনি, শিরা এবং অন্যান্য রক্তনালির ভরসায়। কিন্তু হার্টের সেই ‘সৈন্যসামন্ত’ই যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে হৃদরোগ অবধারিত।
কোলেস্টেরল, হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিস— ইত্যাদি নানা কারণে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এবং ব্যাহত হতে পারে তাদের কাজ। তবে সেই ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালি মেরামতেরও উপায় আছে। কিছু সাধারণ খাবার প্রতিদিনের থালায় রাখলে তা হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে মেরামত করে সুস্থ রাখতে পারে।
তবে এসব খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে। এ খাবারগুলো অত্যন্ত উপকারী হলেও তা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা কিংবা উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা রয়েছে, তারা দৈনন্দিন খাওয়াদাওয়ায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনতে চাইলে আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কারণ অতিরিক্ত ডার্ক চকোলেট খেলে আবার শরীরে ক্যালোরি ও শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা ও প্রক্রিয়াজাত তেল-মসলাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখার আসল চাবিকাঠি।
চলুন জেনে নিন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যা রাখা উচিত—
কপি
বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ব্রাসেল স্প্রাউটের মতো সব্জিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আইসোথাইওসায়ানেট ও গ্লুকোসিনোলেট। এগুলি রক্তনালির প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমায় এবং ধমনীর গায়ে কোলেস্টেরল বা ক্যালশিয়ামজাত প্লাক জমতে দেয় না।
আখরোট
আখরোটে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড রক্তের ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। এটি ধমনীর নমনীয়তা বজায় রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না।
তৈলাক্ত মাছ
রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর, শিঙির মতো তৈলাক্ত মাছে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এতে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
বিট
বিটে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট থাকে, যা শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত হয়। ওই নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ডার্ক চকোলেট
এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ধমনীকে পরিচ্ছন্ন রাখে। এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করতেও অনুঘটক হিসাবে কাজ করে, যা রক্ত চলাচলের পথকে বাধাহীন রাখে।
আরও পড়ুন:







