ড্রাগন ফলকে অনেকেই ‘সুপার ফ্রুট’ বলে থাকেন। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে এটি ফল হিসেবে একটু বেশিই জনপ্রিয়। ব্যতিক্রমী স্বাদ, আকর্ষণীয় রং ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করেন ফলটি।
ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফ্রুটে ৬০ কিলোক্যালরি শক্তি, ১৩ থেকে ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ১ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এত পুষ্টিগুণ থাকলেও ড্রাগন ফল সবার জন্য নিরাপদ নয়।
কারা খাবেন
পুষ্টিবিদরা বলেন, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার ও আয়রন সমৃদ্ধ এই ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একইসঙ্গে রক্তাল্পতার সমস্যা থাকলে তা সমাধান করে, এ ক্ষেত্রে ড্রাগনে বিদ্যমান আয়রন উপাদান খুবই সহায়ক। অনেকেরই হজমজনিত সমস্যা দেখা যায়। যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা ড্রাগন খেতে পারেন। এতে থাকা ফাইবার হজমের সমস্যা দূর করে। আবার ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিও করে। ডায়াবেটিসের জন্যও উপকারী এটি। এছাড়া শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে এই ফল কার্যকর বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান।
কারা খাবেন না
হজমে সমস্যা থাকা মানুষদের খালি পেটে ড্রাগন খাওয়া ঠিক নয় বলে জানালেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। এ ধরনের সমস্যায় খালি পেটে ড্রাগন খাওয়া হলে পেট ফাঁপা, ডায়েরিয়া, বমি বা অস্বস্তি বোধ হতে পরে। কিডনি রোগ বা কিডনিতে পাথরের প্রবণতা থাকলে সীমিত পরিমাণ ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত। কেননা, ড্রাগনে অল্প পরিমাণ অক্সালেট থাকে, যা কখনো কখনো কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া।
এছাড়া গর্ভবতী নারী এবং স্তন্যদানকারী মায়েরা ড্রাগন পরিমাণমতো খান। একসঙ্গে খুব বেশি ফল খাওয়া ঠিক নয়। কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকলে, সুস্থ মানুষ নিশ্চিন্তে ড্রাগন ফল খেতে পারেন।
খাওয়ার পরিমাণ
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ড্রাগন ফল খাওয়া যথেষ্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অর্ধেক করা উচিত। তারা ৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম পর্যন্ত খেতে পারেন। তবে হজমজনিত সমস্যা থাকলে দই বা অন্যসব ফলের সঙ্গে মিক্সড ফ্রুটস সালাদ হিসেবে খেতে পারেন।,
আরও পড়ুন:







