রবিবার

৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

কম বয়সেই বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি? নারীদের যে ৩ লক্ষণ অবহেলা নয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪২

শেয়ার

কম বয়সেই বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি? নারীদের যে ৩ লক্ষণ অবহেলা নয়
ছবি সংগৃহীত

মা হওয়ার বয়স নিয়ে এখন আর নির্দিষ্ট কোনো সীমারেখা নেই। কেরিয়ার, চাকরি ও নানা ব্যক্তিগত কারণে অনেক নারীই আগের তুলনায় দেরিতে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং হরমোনের নানা সমস্যার কারণে কম বয়সেও সন্তানধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছু পরিবর্তন আগে থেকেই দেখা দিতে পারে। সেসব লক্ষণ সময়মতো চিনতে পারলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয় এবং সন্তানধারণের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব

প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব না হওয়া, ২১ দিনের কম ব্যবধানে বারবার ঋতুস্রাব হওয়া কিংবা মাসের পর মাস ঋতুস্রাব বন্ধ থাকা স্বাভাবিক নয়।,

এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত রক্তপাত, অসহ্য পেটব্যথা বা শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে জরায়ুতে মাংসপিণ্ড তৈরি হতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত রক্তপাত ও ব্যথার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে সন্তানধারণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঋতুস্রাবের আগে-পরে তীব্র ব্যথা

ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কিন্তু ঋতুস্রাব শুরুর আগেই তলপেট ও কোমরে তীব্র ব্যথা শুরু হওয়া এবং ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পরও কয়েক দিন সেই ব্যথা থাকা স্বাভাবিক নয়।

মলত্যাগ বা প্রস্রাবের সময় তলপেটে ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, মাসে দুবার ঋতুস্রাব হওয়া এবং একই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।,

এসব লক্ষণ এন্ডোমেট্রিয়োসিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এ সমস্যায় জরায়ুর ভেতরের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে তৈরি হতে পারে। ডিম্বাশয় ও ডিম্বনালিতেও সিস্ট তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে সন্তানধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ

শরীরে হঠাৎ অতিরিক্ত লোম গজানো, মুখে বারবার ব্রণ হওয়া, মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন-এসব লক্ষণও অবহেলা করা উচিত নয়।

এগুলো পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। শরীরে নারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা থাকলে ঋতুচক্র অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি সন্তানধারণেও সমস্যা হতে পারে।

লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?

শুধু একটি লক্ষণ দেখেই বন্ধ্যাত্বের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে ঋতুস্রাবের অস্বাভাবিকতা, তীব্র ব্যথা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে তা অবহেলা না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সময়মতো কারণ শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। তাই শরীরের পরিবর্তনকে স্বাভাবিক ভেবে দীর্ঘদিন এড়িয়ে না গিয়ে সচেতন হওয়াই ভালো।,



banner close
banner close