বিয়ের কিছুদিন পর অনেকেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অবাক হন—কখন, কীভাবে শরীরটা ভারী হয়ে গেল? আগে যে জামা সহজে পরা যেত, সেটাই এখন টানটান লাগে। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এই অভিজ্ঞতা খুবই সাধারণ। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়; বরং দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে যুক্ত জীবনধারা, মানসিক পরিবর্তন ও শারীরিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ফল।
বিয়ের পর জীবনযাপনের ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সংসারের দায়িত্ব, কাজের চাপ ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও একটি বড় কারণ। দম্পতিরা একসঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে প্রায়ই ভাজাপোড়া, মিষ্টি কিংবা রেস্তোরাঁর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। রাত জেগে গল্প করা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া বা নিয়মের বাইরে স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে ওজন বাড়িয়ে তোলে।
বিয়ের পর সামাজিক দাওয়াত ও উৎসবের সংখ্যাও বেড়ে যায়। আত্মীয়স্বজনের বাসায় আমন্ত্রণ বা নিজের বাসায় অতিথি আপ্যায়নে নিয়মিত উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হয়। এই সময়টায় নিয়ন্ত্রণহীন খাওয়াদাওয়া ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নতুন দাম্পত্য জীবনে মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হলে অনেকেই আরামপ্রিয় হয়ে পড়েন। আনন্দ, ভালোবাসা কিংবা মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে খাবারকে জুড়ে দেয়ার অভ্যাসকে বলা হয় ‘কমফোর্ট ইটিং’। এই অভ্যাসে অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ হয়, যা ওজন বাড়াতে সহায়তা করে।
হরমোনজনিত পরিবর্তনও ওজন বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর, বিশেষ করে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সময় হরমোনের ওঠানামা বেশি দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়া স্বাভাবিক হলেও প্রসবের পর তা কমানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে বয়স, মানসিক চাপ ও দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণে বিপাকক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া বিয়ের পর ঘুমের সময়সূচি ও মানে পরিবর্তন আসে। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।
আরও পড়ুন:








