কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় পাঙাশ মাছ অনেকের প্রিয় হলেও এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন এতে চর্বির মাত্রা বেশি, আবার কেউ মনে করেন এতে পুষ্টিগুণ কম। তাই পাঙাশ মাছ খাওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন।
এই বিষয়ে পুষ্টিবিদ জানান, সঠিক উৎস থেকে নেয়া এবং নিরাপদভাবে রান্না করা হলে পাঙাশ মাছ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
পাঙাশ মাছের পুষ্টিগুণ
পাঙাশ মাছের মধ্যে রয়েছে:
.উচ্চমানের প্রোটিন
.প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড
.আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ভালো চর্বি)
.ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
.ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
.এই পুষ্টিগুণগুলো শরীর গঠন, হাড় মজবুত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
পাঙাশ মাছের উপকারিতা
হার্টের জন্য ভালো: ওমেগা-৩ ও ভালো চর্বি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
পেশি গঠনে সহায়ক: উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে ভূমিকা রাখে।
হাড় ও দাঁত মজবুত: ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠন শক্তিশালী করে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী: ওমেগা-৩ ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় রাখে।
কখন পাঙাশ মাছ ক্ষতিকর হতে পারে?
মাহিনুর ফেরদৌসের মতে, অনেক পুকুরে পাঙাশ মাছ কৃত্রিম খাদ্য, ওষুধ ও কখনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এছাড়া সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন বা অন্যান্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হলে তা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণ ও অপর্যাপ্ত রান্নাও ঝুঁকি বাড়ায়।
সুতরাং পাঙাশ মাছ খাবেন কীভাবে?
.নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ উৎস থেকে কিনুন।
.সম্ভব হলে নদীর পাঙাশ বা প্রাকৃতিকভাবে চাষকৃত মাছ বেছে নিন।
.ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করুন।
.খাদ্যতালিকায় মাছের বৈচিত্র্য বজায় রাখুন।
.সচেতনতা অবলম্বন করলে পাঙাশ মাছ হতে পারে সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর একটি খাবার।
আরও পড়ুন:








