রাতের বেলায় কেউ ভেষজ চা খান, কেউ গোল্ডেন মিল্ক খান, আবার কেউ হালকা এবং প্রশান্তিদায়ক কিছু দিয়ে দিন শেষ করতে পছন্দ করেন। ধীরে ধীরে ঘরে তৈরি পানীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, কারণ এটি তৈরি করা সহজ বরং অনেকের জন্য কার্যকরও। এই ঘরে তৈরি পানীয়ের মধ্যে একটি হলো গুড় দিয়ে তৈরি, যার কথা অনেকেই বলে থাকেন। উন্নত হজম থেকে শুরু করে উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যন্ত, এই পানীয় অনেক ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। এক মাস ধরে প্রতি রাতে গুড় ভেজানো পানি খেলে শরীরে ঠিক যা ঘটে:
হজমশক্তি বাড়ে
গুড় ভেজানো পানি পাচনতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কারণ গুড় শরীরের পাচক এনজাইমকে সক্রিয় করে, যা শরীরকে রাতের খাবার ভালোভাবে প্রক্রিয়া করতে সাহায্য করে এবং ঘুমানোর আগে ভারী ভাব রোধ করে। এছাড়া, গুড় ভেজানো পানি মূত্রবর্ধক হিসেবেও কাজ করে যা অন্ত্রের গতিবিধিকে উদ্দীপিত করতে করে। সেইসঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
ঘুমানোর আগে স্বস্তি
শীতকালে গুড় ভেজানো পানির উষ্ণতা নিজেই একটি বড় ভূমিকা পালন করে, তবে এর পুষ্টির গঠন আপনাকে আরও ভালোভাবে শিথিল করতেও সাহায্য করতে পারে। ২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, গুড়ে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৭০-৯০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা পেশী শিথিলকরণ এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত করার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি খনিজ। তাই একটানা একমাস প্রতি রাতে এই পানীয় পান করলে তা শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন এবং ঘুম থেকে উঠেও সতেজ বোধ করবেন।
লিভারের প্রাকৃতিক ডিটক্স
গুড় একটি প্রাকৃতিক শরীর পরিষ্কারক, যা লিভারের কাজের চাপ আরও কমিয়ে দেয়। রাতে গুড় ভেজানো পানি পান করলে তা ঘুমানোর সময় আপনার শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্স করতে সাহায্য করবে। এটি আপনার শক্তি বৃদ্ধিতে এবং আরও সতেজতা নিয়ে ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করবে। তাই লিভার ভালো রাখতে নিয়মিত গুড় ভেজানো পানি পান করার অভ্যাস করুন।
খনিজ গ্রহণের উন্নতি হতে পারে
২০২৪ সালে জার্নাল অফ মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল রিসার্চ-এ প্রকাশিত একটি অধ্যায় অনুসারে, নিয়মিত গুড় ভেজানো পানি পান করলে তা পুষ্টির ছোট ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে। কারণ গুড়ে আয়রন, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি থাকে।
হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উপকারী হতে পারে
আয়রন গ্রহণকে সমর্থন করার জন্য গুড়কে একটি মৃদু, খাদ্য-ভিত্তিক উপায় হিসাবে সুপারিশ করা হয়। নিয়মিত খেলে, বিশেষ করে রাতে যখন হজম শান্ত হয়, তখন এটি স্বাস্থ্যকর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন:








