মঙ্গলবার

৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেঙ্গু-হামে মৃত্যুর মিছিল হাসপাতালে ঠাঁই নেই রোগীর!

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৩

শেয়ার

ডেঙ্গু-হামে মৃত্যুর মিছিল হাসপাতালে ঠাঁই নেই রোগীর!
ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর দাপট, তার সঙ্গে চলতি বছর নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়া হামের প্রকোপ—যেন কমছেই না। একের পর এক প্রাণহানিতে ভারী হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, আর এই দুই সাপের ছোবলে দেশের হাসপাতালগুলোও যেন পরিণত হচ্ছে মৃত্যুপূরিতে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে ৯ জনের মতো। তবে ডেঙ্গুর দানবীয় থাবার সবচেয়ে ভয়াবহ ছোবল ছিল সেপ্টেম্বরে। জানা যায়, এই এক মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৪৮ জনের মত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত চার মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে উঠে আসে আরও ভয়াবহ চিত্র। জানা যায়, চলতি বছরের জুনে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯০৭ জন। সেই সংখ্যা জুলাইয়ে এসে দাঁড়ায় ৯ হাজারে, আগস্টে ২০ হাজারে—আর সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা রূপ নেয় ৪৩ হাজারে। মাত্র চার মাসেই ডেঙ্গু যেন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে পঙ্গপালের ন্যায়। আর এই চার মাসেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০০-এরও বেশি।

হামের প্রকোপ ও মৃত্যু

অন্যদিকে, ডেঙ্গুর দাপটের মধ্যেই দেশে হামের আবির্ভাব ঘটে এক নীরব প্রাণঘাতী হাতিয়ার হিসেবে। জুন থেকে ৫ অক্টোবর—মাত্র চার মাসে দেশে হামের সন্দেহভাজন রোগী বেড়েছে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে হাম নিশ্চিত হয়েছে ১২ হাজার ৭৫৯ জনের। আর হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৪৩ জনের মতো।

হাসপাতালে সংকট ও রোগীদের ভোগান্তি

এদিকে ডেঙ্গু ও হামে প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রাণ ঝরলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ মিলছে না বলেই প্রশ্ন রয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও কোনো সিট না পেয়ে সর্বশেষ রোগীর জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের করিডোর, সিঁড়ি কিংবা বারান্দায়। অপরদিকে, হাসপাতালগুলোতে গেলেও চোখে পড়ে স্বজনদের সীমাহীন হতাশা আর আর্তনাদ।

অপরদিকে, রোগীদের এই সীমাহীন ভোগান্তির কথা সরাসরি স্বীকার করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তাদের দাবি, স্থান সংকটের কারণে পরিত্যক্ত ও বিপজ্জনক ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের শয্যা উন্নীত করা জরুরি বলে মনে করছে তারা। তবে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বারবার অনেক হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের হোঁচট খেতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য তাদের।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মী মৃদুল নিজ সন্তানের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেছেন হাসপাতালকেন্দ্রিক ভিন্ন কিছু বাস্তবতার কথা। তার দাবি, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চরম অবহেলার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

বাজেট বাড়লেও চিকিৎসা সংকট

বাজেটের খাতায় হাজার কোটি টাকার হিসাব, কিন্তু হাসপাতালের দরজায় এলেই যেন উধাও হয়ে যায় তার সব কার্যকারিতা। দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন দেখা দিচ্ছে একের পর এক চরম অব্যবস্থাপনা। যখন হাজার কোটি টাকার বাজেটেও যদি দূর করতে না পারে স্বাস্থ্যখাতের এই অব্যবস্থাপনা, তাহলে প্রশ্ন উঠে—এত বিশাল বাজেটের ফায়দাটা কী?