হাসপাতাল মানেই চিকিৎসকের মেলা। যেখানে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই থাকে চিকিৎসকের ব্যাপক উপস্থিতি। সেখানে চিকিৎসকের এক মুহূর্তের অবহেলাই কেড়ে নিতে পারে একটি নিরীহ প্রাণ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে এমনই এক বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তুমুল বিতর্ক।
পরিবারের অভিযোগ
ফেসবুকের সেই লাইভে ওই ব্যক্তিকে দাবি করতে দেখা যায়, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আয়ান আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, চিকিৎসকের অবহেলা ও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ করেন মৃত শিশুর পরিবার।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি
ঘটনার পেছনের কারণ জানতে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে উপস্থিত হয় টিম বাংলা এডিশন।
সেখানে গিয়ে জানা যায় এক ভিন্ন বাস্তবতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশু আয়ানের মৃত্যুর সময়ও হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। শুধু উপস্থিতিই নয়, তারা প্রতিনিয়ত শিশুটিকে নজরদারিতেও রেখেছিলেন বলে দাবি করে।
সেই সঙ্গে তারা আরও বলে, শিশুটিকে তার পরিবার অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। শারীরিক জটিলতা থেকে শুরু করে একাধিক রোগে আক্রান্ত থাকায় অনেক চেষ্টা করা সত্ত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। পাশাপাশি হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি বলেও দাবি আসে কর্তৃপক্ষের।
এছাড়াও বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেসবুক লাইভে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক। তার দাবি, লাইভে আসা ব্যক্তি শিশুটির কোনো আত্মীয় নন। বরং তার কারণে হাসপাতালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
আলাদা মালিকানাধীন ইউনিট
অনেকের কাছে ঘটনাটি পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ঘটেছে বলে মনে হলেও, বাংলা এডিশন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে, ঘটনাটি ঘটেছে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডের এনআইসিইউ/পিআইসিইউতে। যা আলাদা মালিকানাধীন।
তদন্তের দাবি
পরিবারের অভিযোগ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মিলিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি হয়েছে ধোয়াশা। এই অবস্থায়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসা জরুরি। যেন অবহেলা কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে আর কোনো নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরে না যায়, সেটিই সময়ের বড় দাবি।
আরও পড়ুন:







