রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

একদিকে বাজারে নকল ওষুধ অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯

শেয়ার

একদিকে বাজারে নকল ওষুধ অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ
ছবি বাংলা এডিশন

একদিকে বাজারে নকল ওষুধ অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ওষুধের মোড়কে যেন বিক্রি হচ্ছে বিষ! বাজারে নকল ওষুধ নকল ওষুধ খেয়ে আরো অসুস্থ রোগী; দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি

একদল অসাধু ব্যবসায়ী আসল ওষুধের মোড়কে বিক্রি করছে বিষ, আর অন্যদিকে রোগীদের না দিয়ে বস্তার পর বস্তা ভালো ওষুধ ফেলে রেখে করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ। স্বাস্থ্য খাতের এমন দ্বিমুখী ভয়ংকর সংকটে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা চরম হুমকিতে।

বাজারে নকল ওষুধের ভয়াবহ চিত্র

দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে নকল ওষুধের এক ভয়াবহ চিত্র। দেখতে অবিকল এক, একই রং, একই প্যাকেট, একই নাম পার্থক্য শুধু ভেতরে। চিকিৎসকের পরামর্শে ‘গ্যাভিসল’ নামের একটি গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ কিনে আনেন এক ব্যক্তি।

কিন্তু রোগীকে ওই ওষুধ খাওয়ানোর পরই উৎকট গন্ধে বমি ভাব শুরু হয়। সন্দেহ থেকে আরেকটি ওষুধ কিনে আনতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। প্যাকেটের সব তথ্য হুবহু এক হলেও, ভেতরের ওষুধের রং সম্পূর্ণ আলাদা।

সরকারি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের স্তূপ

একদিকে যখন নকল ওষুধের এমন রমরমা কারবার, ঠিক তখনই রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে উন্মোচিত হলো আসল ওষুধ নষ্ট করার আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল মিরপুর-১ এর মাজার রোডে অবস্থিত মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই আস্থার আড়ালেই চলছে এক অদ্ভুত অব্যবস্থাপনা।

টিম বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানে হাসপাতালটির আন্ডারগ্রাউন্ডের এক গোপন কক্ষে মিলেছে বস্তার পর বস্তা সরকারি ওষুধের স্তূপ।

শুরুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা এমন কোনো কক্ষের অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করেন।

কিন্তু দেয়ালের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা সত্য। অন্ধকার মেঝেতে পড়ে থাকা ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে মেট্রোনিডাজলের মতো জীবনরক্ষাকারী হাজারো ওষুধ এখন পুরোটাই মেয়াদোত্তীর্ণ।

যেখানে একটি সরকারি ওষুধের জন্য সাধারণ রোগীকে হাহাকার করতে হয়, সেখানে কার স্বার্থে এসব আসল ওষুধ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নষ্ট করা হলো?

দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কথা হয় হাসপাতালের পরিচালক ড. ইকবাল কবিরের সঙ্গে। তিনি দায় এড়িয়ে দাবি করেন, এসব ওষুধ তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের।

অন্যদিকে, মূল স্টোরেও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকার গোপন অভিযোগ যাচাই করতে গেলে স্টোরকিপার তানভির স্টোর পরিদর্শনে রীতিমতো বাধা দেন এবং নিজের দায় অস্বীকার করেন।

হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার ছাপ

শুধু ওষুধ নষ্ট করাই নয়, হাসপাতালের পরতে পরতে যেন অব্যবস্থাপনার ছাপ। পরিচালকের দাবি তাদের পরিবেশ অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে পরিচ্ছন্ন। অথচ সরেজমিনে হাসপাতালের ওয়ার্ড ও করিডোরে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিকিৎসকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, রোগীর স্বজনদের বসার জায়গার অভাব আর বিকল লিফটের চরম ভোগান্তি।

একদিকে নকল ওষুধের বিষ, অন্যদিকে আসল ওষুধের নির্মম অপচয়। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ শুধু অর্থের অপচয় নয়, এটি দেশের মানুষের অধিকার বঞ্চনার দলিল। অব্যবস্থাপনার এই গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্য খাতে এখন প্রয়োজন কঠোর নজরদারি আর জবাবদিহি।