শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

ছোট্ট সোহানার শরীরে ক্যান্সার প্রয়োজন ৩০ লাখ টাকা

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৭

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৯

শেয়ার

ছোট্ট সোহানার শরীরে ক্যান্সার প্রয়োজন ৩০ লাখ টাকা
ছবি সংগৃহীত

বই-খাতা ছুঁয়ে ভবিষ্যৎ লেখার কথা ছিল যে হাতে, সেই হাতেই এখন স্যালাইনের নল। স্বপ্নের খাতায় যেখানে আঁকার কথা ছিল আগামীর ছবি, সেখানে এখন প্রতিটি মুহূর্ত যেন জীবন-মৃত্যুর হিসাব।

সোহানা জাহান মৌলি। রাজধানীর শনির আখরায় বাবা, মা ও এক ভাই-বোন নিয়ে যার পরিবার। ১২ বছর বয়সী সোহানা বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। যে কিনা একসময় স্বপ্ন দেখত পড়াশোনা করে ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে। আজ সেই ছোট্ট সোহানাই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর এক নির্মম সন্ধিক্ষণে।

স্বপ্নের পথে নেমে এসেছে অন্ধকার

কিন্তু কে জানত, যে শিশুটি প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের মনে স্বপ্ন বুনছিল, সেই স্বপ্নের পথেই একদিন নেমে আসবে নির্মম অন্ধকার। ছোট্ট ব্যাংকটিতে হয়তো আজও জমা আছে তার সঞ্চয়, কিন্তু নেই সেই নিষ্পাপ শিশুটির স্বপ্ন দেখার অবকাশ।

মাথার সব চুল ঝরে গেছে। শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথা। কখনো রক্ত, কখনো প্লাটিলেট—এভাবেই মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই করছে এই কিশোরী। পরীক্ষা আর হাসপাতাল—দুটোর মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগও যেন পায়নি সোহানা। জীবনই তাকে ডেকে নিয়েছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার হলে।

পরিবারের সামর্থ্যে আঘাত

সোহানার ক্যান্সার শুধু তার শরীরেই আঘাত করেনি—আঘাত করেছে তার পড়াশোনা, স্বপ্ন আর পুরো পরিবারের সামর্থ্যে। এতদিন যা ছিল বই কেনার খরচ, পরীক্ষার ফি কিংবা ভবিষ্যৎ গড়ার সঞ্চয়— এক মূহুর্তে সবই চলে গেছে চিকিৎসার পেছনে। একটি শিশুকে ঘিরে যে পরিবারটির ছিল স্বপ্ন, সেই পরিবারটিই আজ চিকিৎসার ব্যয়ের ভারে ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

কিন্তু লড়াইয়ের ময়দানটা যেন আরও কঠিন। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, দ্রুত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট না করা গেলে কঠিন হয়ে পড়বে মৌলির জীবন রক্ষা। এই চিকিৎসায় প্রয়োজন প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এত বড় অঙ্কের অর্থের সামনে দাঁড়িয়ে অসহায় পরিবারটির চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—কীভাবে বাঁচানো যাবে তাদের ছোট্ট সোহানাকে?

বাবার ভালোবাসা ও অসহায়তা

আরিফুর রহমান সোহানার আপন বাবা নন। সোহানার বয়স যখন ৩ বছর, তখনই মারা যান তার আপন বাবা। এরপর আরিফুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় সোহানার মায়ের। আপন বাবা না হয়েও নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন সোহানার জন্য। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসার সেই বন্ধনেই এতদিন মেয়েটির পাশে ছিলেন তিনি। আজ সেই মেয়ের জীবন বাঁচাতে তিনিও যেন দাঁড়িয়ে আছেন এক অসহায় প্রান্তসীমায়।

মেয়ের অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না মা-বাবা। সন্তানের চিকিৎসায় একের পর এক খরচ মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব প্রায় পরিবারটি। তবুও মেয়েকে বাঁচানোর লড়াই থামেনি। শেষ সম্বলটুকুও যখন ফুরিয়ে গেছে, তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানুষের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন তারা।

একটি শিশুর স্বপ্ন কখনোই হাসপাতালের বিছানায় থেমে যাওয়ার কথা নয়। যে চোখে একদিন পবিত্র হজ পালন কিংবা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল, সেই চোখে আবারও জ্বলে উঠুক বেঁচে থাকার আলো। কিন্তু সেই আলো জ্বালাতে এখন প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা আর সহমর্মিতা।