বাগেরহাটের চিতলমারীতে মেডিকেল সহকারীকে দিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, ওই অস্ত্রোপচারের পর নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রসূতি গৃহবধূ লাভলী ঘরামী। বর্তমানে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি। ভুক্তভোগী লাভলী চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের রানাপাড়া গ্রামের সমরেশ ঘরামীর স্ত্রী।
ক্লিনিকে ভর্তি ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ
রবিবার (২৬ জুলাই) প্রসব বেদনা উঠলে লাভলীকে স্থানীয় হাবিবা ক্লিনিক অ্যান্ড বারিশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে অস্ত্রোপচার করেন ক্লিনিকের মেডিকেল সহকারী অমিত মণ্ডল। অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে, মোবাইল ফোনের আলোয় দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্রোপচার চালানো হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের। তাদের দাবি, এর পরই নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং লাভলীর শরীরে গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী লাভলী ঘরামীর দাবি, তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তার অস্ত্রোপচার চলে। অস্ত্রোপচারের আগে-পরে তিনি কোনো চিকিৎসককে দেখেননি বলেও জানান। এরপর থেকেই শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। ছোট ছোট সন্তানদের কথা উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন লাভলী।
স্বামীর বক্তব্য
ভুক্তভোগীর স্বামী সমরেশ ঘরামীর দাবি, তৃতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর লাভলীর প্লাসেন্টা প্রিভিয়া ধরা পড়ে। দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। তবে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে হাবিবা ক্লিনিকে নেয়া হলে অমিত মণ্ডল ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন বলে দাবি তার। পরে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাইরে থেকে চিকিৎসক আনার কথা থাকলেও সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় অমিত মণ্ডল, ক্লিনিক পরিচালক সাব্বির আহমেদ রুপম ও রফিক তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যান বলে অভিযোগ তার।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, একজন প্রসূতির মতো স্পর্শকাতর রোগীর অস্ত্রোপচার কীভাবে এবং কার মাধ্যমে পরিচালিত হলো। নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতির গুরুতর অসুস্থতার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
অভিযুক্তদের অস্বীকার
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিকেল সহকারী অমিত মণ্ডল। তার দাবি, লাভলীর কোনো অস্ত্রোপচার তিনি করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই অস্ত্রোপচার চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দীন করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিক পরিচালক সাব্বির আহমেদও অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ক্লিনিকের সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক হিসেবে যার নাম বলা হচ্ছে, সেই ডা. নাসির উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসঙ্গে মেডিকেল সহকারী ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখতে পারেন না বলেও জানান তিনি।
নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতির গুরুতর অসুস্থতার ঘটনায় ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখন তদন্তের বিষয়। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের।
আরও পড়ুন:







