বৃহস্পতিবার

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২ ভাদ্র, ১৪৩৩

আকিকার মিষ্টি খেয়ে একে একে অসুস্থ আট শিশু

শরিফুল ইসলাম ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৪

শেয়ার

আকিকার মিষ্টি খেয়ে একে একে অসুস্থ আট শিশু
ছবি সংগৃহীত

মিষ্টি মানেই আনন্দ। কিন্তু সেই মিষ্টিই যেন ডেকে আনল অভাবনীয় দুঃখ। ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নে আকিকার আয়োজনের মিষ্টি খেয়ে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আট শিশু। পরে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে কয়েকজন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ছোট-বড় সবার প্রিয় এই খাবারটি ছাড়া যেন অনেক উৎসবই পূর্ণতা পায় না। আর আকিকার আয়োজন হলে তো কথাই নেই। স্বজনদের আনাগোনা, শিশুদের ছোটাছুটি আর আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাড়ি। তেমনই এক আনন্দঘন আয়োজন মিষ্টি খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় স্বজনদের উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের খলিল মন্ডল হাটের মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে আনা মিষ্টি খাওয়ার পর শিশুদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে সাধারণ অসুস্থতা বলে মনে করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে রাতে তাসফিয়া, তাওহিদ, সুমাইয়াসহ আট শিশুকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। যে সময়টাতে তাদের হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেই সময় হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হচ্ছে তাদের। স্বজনদের চোখে এখন উদ্বেগ।

মিষ্টির দোকান মালিকের দাবি

শিশুদের অসুস্থতার কারণ কি সত্যিই ওই মিষ্টি, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ, এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টির দোকানের মালিক জিয়ারত মোল্লা। তাঁর দাবি, মিষ্টির কারণে নয়, অন্য কোনো কারণেও শিশুরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।

জিয়ারত মোল্লা, মালিক, মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভাণ্ডার।

তদন্তের আশ্বাস ইউপি চেয়ারম্যানের

চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

আকিকার মতো আনন্দের আয়োজন যেন আর কোনো পরিবারের জন্য এমন আতঙ্কের কারণ না হয়, এমনটাই সবার প্রত্যাশা। সেই সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।