মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

দেড় মাস পর, আজ থেকে পুরোদমে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৯

শেয়ার

দেড় মাস পর, আজ থেকে পুরোদমে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু
ছবি বাংলা এডিশন

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দীর্ঘ দেড় মাস পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে পুনরায় পুরোদমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

লাইসেন্স পুনর্বহালের পর হাসপাতালটির বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। হাসপাতাল পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে ৬০৭ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। একই সময়ে ৫৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ৮টি সিজারিয়ান ও ৩টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।

বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক ইলিয়াস মানসুর বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তাদের দেশে একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না হলে ডিগ্রির স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। হাসপাতাল চালু হওয়ায় তারা এখন ইন্টার্নশিপ শেষ করে রোগীদের সেবা দিতে পারবেন।

নেপালের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম চলমান ছিল এবং সীমিত পরিসরে ক্লিনিক্যাল ক্লাস পরিচালিত হয়েছে। হাসপাতাল পুনরায় চালু হওয়ায় হাতে-কলমে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আবারও সৃষ্টি হয়েছে।

শরীয়তপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা আক্তার বলেন, এর আগে তার দুটি সন্তানের জন্ম এই হাসপাতালেই হয়েছে। আগামী মাসে তার আরেকটি সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় রয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের আন্তরিকতা, সেবার মান এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ের কারণে তিনি হাসপাতালটির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।

এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালটি পুনরায় চালু হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তি ফিরেছে। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানেরও প্রশংসা করেন।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহেদ হোসাইন বলেন, হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। লাইসেন্স পুনর্বহালের মাধ্যমে সেই উদ্বেগ কেটে গেছে এবং এখন নতুন উদ্যমে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আলো-বাতাস চলাচল এবং অক্সিজেন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বল্প খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ছাড়াও আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিসসহ প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সেবা চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনুসরণ করে এসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসব নিরুৎসাহিত করে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। হাসপাতালটি স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা এবং ঢাকার মধ্যে ৩৮০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও প্রদান করছে।

উল্লেখ্য, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে ৯টি হাসপাতাল, ৫টি মেডিকেল কলেজ, ১টি নার্সিং কলেজ, ৪টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ২টি স্কুল এবং বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।



banner close
banner close