দেশের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন দৃশ্যমান না হলেও হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবাকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে।
প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, দেশের নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা হলেও বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে তাকালে সাধারণ মানুষের জীবনের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা নিজেদের অযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তাঁর একটি গুণের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে এমনটি বলতে নিষেধ করেন বলে তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজেট বাড়লেও উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন
চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে এ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক বা মৌলিক পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে বিশ্লেষকদের মত তুলে ধরা হয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটের বড় অংশ কেনাকাটার নামে অপচয় হচ্ছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্ট সুবিধাও পর্যাপ্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু ও টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা
প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরিবর্তে লুঙ্গি ও ফুলহাতা শার্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সময়মতো টিকা না পাওয়ায় হামের প্রকোপ বেড়েছে এবং গত কয়েক মাসে হাম ও এর উপসর্গে প্রায় ৭৮৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনীতি ও হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত
প্রদত্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন হাসপাতাল নির্মাণ ও সংস্কারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর লাইসেন্স রক্ষার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর পেছনে ঘুরেছে।
তবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু রোগীদের বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে। সচেতন মহলের মতে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া কোনো যৌক্তিক সমাধান নয়।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংসদে আলোচনা হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের মত রয়েছে। রাজনীতি ও তোষামোদের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষ কবে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








