অবশেষে ৪কোটি টাকার বিলের বিপরীতে মাত্র ১কোটি টাকার ঔষধ ও অন্যান্যে সরঞ্জাম সরবরাহ করে ৩কোটি টাকা বেশি উত্তোলনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, আগে সবগুলো টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল ম্যানুয়ালী। তবে এ প্রথমবারই টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল ইজিপিতে। এবার মোট ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ ইজিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। ৬টি প্যাকেজের মধ্যে একটি পেয়েছে আলমগীর এন্ড ব্রাদার্স ও ৫টি পেয়েছে এমএসএম। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘবছর যারা ম্যানুয়ালী ভাবে সবাইকে ম্যানেজ করে কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে তারা এবারও সিস্টেমে ফেলে কাজ বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আমি অনড় থাকায় ঠিকাদারা সুবিধা করতে পারেনি। এজন্যই মূলত এসব ঠিকাদাররা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার ৯৫ভাগ ঔষধ ও অন্যান্যো সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং আগামী ১৫জুলাইয়ের মধ্যে ১শ ভাগ সরঞ্জাম সরবরাহ করবে উল্লেখ করে বিল উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু জুন ফাইনাল এবং কয়েকদিনের মধ্যেই বাকী সরঞ্জাম সরবরাহ করা শেষ হবে তাই বিল করে রাখা হয়েছে। তবে এখনো ঠিকাদারকে ১টাকাও বিল পরিশোধ করা হয়নি। বিল এখনো জেলা পরিষদেই রাখা আছে। ঠিকাদার শতভাগ সরঞ্জাম বুঝিয়ে দিলে তবে তাকে বিল দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, আশা করছি তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে এবং যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের মুখোশও উম্মোচন হবে।
এদিকে এমএসএম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবু জাহিদ বলেন, আমরা গতকাল ঔষধ এনেছি, আজকেও এনেছি। ইতিমধ্যে ৯৫ভাগ ঔষধ ও অন্যান্যে সরঞ্জাম আমরা সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই শতভাগ ঔষধ ও অন্যান্যে সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারবো। তিনি বলেন, ১কোটি টাকার ঔষধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে ৪কোটি টাকার বিল উত্তোলনে বিষয়টি সঠিক নয়। আমরা এখনো ১টাকাও বিল পাইনি। শুধুমাত্র জুন মাস হিসাবে বিল করিয়ে রেখেছি যা এখনো জেলা পরিষদেই রয়েছে। কাজ শেষ করেই আমরা এ বিল উত্তোলন করবো।
এদিকে, শতভাগ ঔষধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১কোটি টাকার ঔষধ ক্রয় করে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে ৪ কোটি টাকার বিল উত্তোলনের বিষয়ে গেল মঙ্গলবার (৩০জুন) পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে ৫সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন হয়। পরে টিমের কর্মকর্তারা বুধবার (১জুলাই) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
তদন্ত টিমের ৫জন হচ্ছে পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক ডা. লেনিন তালুকদার, পার্বত্য জেলা পরিষদের পি এস টু চেয়ারম্যান (অঃদাঃ) মুহাঃ আবুল মনসুর, নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা ও হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা এম, মুহিব্বুল হাসান।
এসময় পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান সদর হাসপাতালের টেন্ডারের বিষয়ে যে অভিযোগ হয়েছে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নির্দেশ দিয়েছেন এটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। এ বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি যে আমরা এখানে এসেছি আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা এখানে টেন্ডার পদ্ধতি সঠিক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবো এবং টেন্ডারে ঔষধসহ যেসকল সামগ্রী আছে তা সঠিক ভাবে কেনা হয়েছে কিনা তা আমরা রিপোর্টে নিয়ে আসবো।
আরও পড়ুন:








