সোমবার

২৯ জুন, ২০২৬ ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

১৭ কোটি টাকার হাসপাতাল পাঁচ বছরেও অচল, নামে ২০ শয্যার নেই একটিও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬ ১৫:৫৬

আপডেট: ২৯ জুন, ২০২৬ ১৫:৫৭

শেয়ার

১৭ কোটি টাকার হাসপাতাল পাঁচ বছরেও অচল, নামে ২০ শয্যার নেই একটিও
ছবি সংগৃহীত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী ২০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২১ সালে উদ্বোধনের পাঁচ বছর পরও চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। নামে ২০ শয্যার হাসপাতাল হলেও সেখানে একটি শয্যাও নেই। বর্তমানে সীমিত পরিসরে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও হাসপাতালটির অধিকাংশ অংশ কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক খোলা থাকলেও দোতলা ভবনের কোথাও রোগীর উপস্থিতি নেই। অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে এবং ধুলাবালিতে ঢেকে গেছে। এক্স-রে, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার বা অস্তিত্বও চোখে পড়েনি। একটি কক্ষে একজন নার্স সীমিত পরিসরে কয়েকজনকে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করছিলেন। তবে হাসপাতালের কোথাও নিয়মিত চিকিৎসাসেবার পরিবেশ দেখা যায়নি। হাসপাতাল চত্বরে গবাদিপশু চরতে এবং সিঁড়িতে ছাগলের মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী হাসপাতালটির উদ্বোধন করলেও এরপর আর এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। চিকিৎসক না থাকায় অধিকাংশ সময় হাসপাতালটি বন্ধই থাকে। ফলে রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা বরিশাল সদরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দুটি স্টাফ কোয়ার্টারসহ হাসপাতালের মূল ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হাসপাতালের জন্য চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন, ছয়জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন অফিস সহায়কের পদ অনুমোদিত রয়েছে। তবে অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অন্যথায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি অব্যবহারে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৌমিত্র সিনহা বলেন, উদ্বোধনের পর জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনজন নার্স ও একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের অর্থনৈতিক কোড এখনো চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ পেলে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।



banner close
banner close