বৃহস্পতিবার

২৫ জুন, ২০২৬ ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল, বিপাকে রোগী ও শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ২০:৩৪

শেয়ার

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল, বিপাকে রোগী ও শিক্ষার্থী
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দিনকে পাঠানো এক চিঠিতেও এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

গত ২৭ মে সকাল ছয়টা থেকে নয়টার মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে গত ৪ জুন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই হাসপাতাল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, কম খরচে ভালো সেবা দেওয়ার কারণে একটি চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির দাবি করেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি, বরং বাতিল করা হয়েছে হাসপাতালের অধীন প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। তার ভাষ্যে, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য পৃথক একটি লাইসেন্স বহাল রয়েছে।

লাইসেন্স বাতিলের পর সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত মোট ৯৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯৫ জন বিদেশি, যাদের অধিকাংশ ভারতীয় নাগরিক। নিয়ম অনুযায়ী, এমবিবিএস বা বিডিএস কোর্স শেষে নিজ নিজ মেডিকেল কলেজ থেকেই বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়, অন্য প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ স্থানান্তরের সুযোগ নেই। এই বাধ্যবাধকতার কারণে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনের দাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছেন।

এর আগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দিতে সম্মত হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বলে জানান পরিবারগুলোর পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।

২০০০ সাল থেকে স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটির ৭০০ শয্যার মধ্যে ১৮০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। হাসপাতালটিতে নারী রোগীদের জন্য সার্জারি থেকে অ্যানেসথেসিয়া পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে নারী চিকিৎসক নিয়োজিত থাকার রীতি অনুসরণ করা হতো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।



banner close
banner close