হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা প্রদান করে এবং রোগীর আরোগ্যের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়, তবে মৃত্যু ঠেকানোর নিশ্চয়তা দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)। একই সঙ্গে হাসপাতাল ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের লাঞ্ছিত করা এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, হাসপাতাল নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। রোগী ও স্বজনরা দ্রুত সুস্থতা প্রত্যাশা করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে সব রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেন না। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের স্বজনরা দ্রুত চিকিৎসকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন। তবে একজন চিকিৎসককে একই সময়ে একাধিক রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হয়। চিকিৎসকের আগেই নার্স বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী রোগীর প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়, যা কখনও কখনও স্বাস্থ্যকর্মীদের লাঞ্ছনা বা হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় রূপ নেয়।
সংগঠনটির মতে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের ওপর হামলা বা ভাঙচুরের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা। কারণ এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় জনগণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
বিবৃতিতে ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৭ মে ভোর রাতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য প্রসূতি, নবজাতক ও শিশুচিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত সেবা দিয়ে আসছে।
বিপিএমসিএর তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন প্রসূতির সন্তান জন্ম হয় এবং শতাধিক শয্যাবিশিষ্ট নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০ নবজাতককে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
সংগঠনটি বলেছে, ছয় নবজাতকের মৃত্যু নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। তবে এখনো তদন্ত শেষ হয়নি, মৃত্যুর কারণও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি এবং কাউকে দায়ী করা হয়নি।
বিবৃতিতে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অন্যান্য রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের অধিকার ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ ক্ষুণ্ন হতে পারে।
আরও পড়ুন:
.jpg)







