রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িকভাবে সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১ হাজার ৩৯ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে নতুন ৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২৫টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রোগী সেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন গর্ভবতী নারী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৮০টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৯৭ সাল থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল সবার সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে ঢাকা, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও নয়টি হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ এবং ডায়ালাইসিস ইউনিটে সংক্রমণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়ানমিন বলেন, আদ্-দ্বীন একটি অলাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। মগবাজারের ৭০০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩০০টি শয্যা বিনামূল্যে রোগীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব রোগীর থাকা-খাওয়াসহ প্রয়োজনীয় সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। তিনি জানান, সরকারের সব ধরনের নিয়ন্ত্রক নীতিমালা অনুসরণ করেই হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য নামমাত্র মূল্যে বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা সারা বছর চালু রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে ৩৮০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও প্রদান করা হচ্ছে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে মর্মান্তিক ও দুঃখজনক উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকার এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সার্বিক সহযোগিতা করছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








