শনিবার

৩০ মে, ২০২৬ ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বরিশালে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬ ০৮:০২

শেয়ার

বরিশালে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ
প্রতীকী ছবি

বরিশালে এইচআইভি সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ এই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যাদের মধ্যে ১১ জনই শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ২০৪ জনের পরীক্ষায় আরও ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জসিম উদ্দিন জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শনাক্ত রোগীদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌনসম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একজন আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রীর শরীরেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাশরুর বিন আজাদ বলেন, আগে এই অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের সময় রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশের বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে সমকামী ব্যক্তির সংখ্যা বা এ-সংক্রান্ত কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই বলেও তিনি জানান।

জাতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে প্রায় দুই হাজার এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, বরিশালে পাঁচ থেকে সাড়ে সাত হাজার মানুষ সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত।

সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইব্রাহিম খলিল বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে যোগাযোগ এবং তদারকি কমে যাওয়া এবং অনলাইনে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাব তরুণদের আচরণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। এ কারণে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়ে না, এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তার লাভ করে। শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরীক্ষার পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

এইডস প্রতিরোধে সরকারি কর্মসূচি চললেও তা কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সচেতনতা ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়।



banner close
banner close