মঙ্গলবার

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেড় মাসে ২৬৪ শিশুর মৃত্যু, ৬১ জেলায় ছড়িয়েছে হাম; ‘উচ্চঝুঁকি’ সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৫৬

শেয়ার

দেড় মাসে ২৬৪ শিশুর মৃত্যু, ৬১ জেলায় ছড়িয়েছে হাম; ‘উচ্চঝুঁকি’ সতর্কতা
ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে অতি সংক্রামক রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত দেড় মাসে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ২৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬১ জেলায় রোগটির বিস্তার ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ৩৩ হাজার ৩৮৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ২২ হাজার ৪৪২ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার।

পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সঙ্গে টিকার ঘাটতি ও বাড়তে থাকা মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি কার্যত মহামারির সমতুল্য এবং জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে বাস্তবে এখনো মহামারি ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধাপগুলো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, কিছু হাসপাতালে ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমন্বিত ক্লিনিক্যাল প্রটোকল, প্রশিক্ষণ ও নজরদারি ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একক চিকিৎসা নির্দেশিকা, রোগ শনাক্তে ব্যাপক পরীক্ষা, আক্রান্তদের আইসোলেশন, সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টাইন এবং হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ-পিআইসিইউ সুবিধা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি ‘ডেথ রিভিউ’ চালু করে মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।

পরীক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কিট সংকটে। বর্তমানে রাজধানীর মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি ল্যাবেই মূলত পরীক্ষা হচ্ছে। প্রতিদিন ৩০০–৪০০ নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও কিটের অভাবে গড়ে ১২০টির মতো পরীক্ষা করা যাচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক রোগী শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের ব্যাপক চলাচল, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন ও ঈদকে কেন্দ্র করে ভ্রমণকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, হামের রোগী খুব অল্প সময়েই বহু মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।

মৃত্যুর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর মধ্যে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ জটিলতা দেখা যাচ্ছে। অপুষ্টিও বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর টিকাদান, পর্যাপ্ত পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোও দ্রুত ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা করে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।



banner close
banner close