বৃহস্পতিবার

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

গরিবের ওষুধ নেই: এনসিডি কর্নারে সংকটে ১২ লাখ রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৩

শেয়ার

গরিবের ওষুধ নেই: এনসিডি কর্নারে সংকটে ১২ লাখ রোগী
ছবি সংগৃহীত

অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের ৪৪৬টি এনসিডি কর্নারে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে নিবন্ধিত ১২ লাখের বেশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী নিয়মিত ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই নিম্নআয়ের ও বয়োবৃদ্ধ।

কেরানীগঞ্জের শিকারীটোলা গ্রামের বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন (৫৮) প্রায় ১৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। স্বামীহারা এই নারী দুই মেয়ের সংসারে থাকেন। তিনি জানান, আগে এক মাসের জন্য দুই ধরনের ওষুধ পেলেও এখন একটি ওষুধ কম দেওয়া হচ্ছে, আরেকটি ২০ দিনের বেশি মেলে না। এতে ওষুধের খরচ জোগাতে না পেরে অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১০টি জেলা হাসপাতালে এসব এনসিডি কর্নার পরিচালিত হয়। ২০১৮ সালে সিলেটের চারটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ এবং রোগীদের নিয়মিত ফলোআপ করা হয়। বর্তমানে ৩২৭টি কর্নারে ‘সিম্পল অ্যাপ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি রোগী সেবা নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির অর্থায়ন মূলত অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওষুধ সরবরাহে ভাটা পড়ে। এতে রোগ নিয়ন্ত্রণের হার ৫৮ শতাংশ থেকে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনসিডি কর্নারে ডায়াবেটিসের জন্য মেটফরমিন ও গ্লিক্লাজাইড এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য অ্যামলোডিপিন, লোজারটেন পটাশিয়াম ও হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থসংকটের কারণে এসব ওষুধ নিয়মিত সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এনসিডি কর্নার লাখো মানুষকে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ। অর্থসংকটে কার্যক্রম ব্যাহত হলে তা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল মোকাদ্দেস জানান, আগে রোগীদের একসঙ্গে দুই মাসের ওষুধ দেওয়া হতো। কিন্তু এখন সংকটের কারণে ১০ দিনের ওষুধও ঠিকমতো দেওয়া যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) হালিমুর রশীদ বলেন, ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তহবিল সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী বাজেটের পর হাসপাতালগুলোর ফান্ড বাড়ানো হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ কেনা সম্ভব হবে।

এদিকে গত ১৬ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে মাত্র দুই মাস সেবা চালানো সম্ভব। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়বে।

স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই অসংক্রামক রোগে হয়, যার ৩৪ শতাংশ হৃদরোগজনিত। চিকিৎসকদের মতে, এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধ ও পর্যবেক্ষণের বিকল্প নেই।



banner close
banner close