পটুয়াখালী জেলাজুড়ে সংক্রামক রোগ হাম-এর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চরম চাপের মধ্যে সেবা দিচ্ছে। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মাত্র ৩১টি শয্যার বিপরীতে ৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০৭ জন শিশুসহ মোট ১১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন যে একটি বেডে চার থেকে পাঁচজন শিশুকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেও শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই হামের রোগী বাড়তে থাকলেও এপ্রিল মাসে তা প্রকট আকার ধারণ করে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৬২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী ৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৩৭ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১৭ জন। এছাড়া ১১৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার পর দ্রুত অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা রুবিনা বেগম বলেন, “হঠাৎ জ্বর আসে, পরে গায়ে লাল দানা দেখা দেয়। হাসপাতালে এনে দেখি জায়গা নেই, অনেক কষ্টে চিকিৎসা নিচ্ছি।” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কলাপাড়া, দুমকি ও গলাচিপা উপজেলার আরও কয়েকজন অভিভাবক।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ও বায়ুবাহিত রোগ। সময়মতো এমআর টিকা না নেওয়াই এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ। কোনো শিশুর তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উপজেলায় সভা করা হচ্ছে এবং যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:








