দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত চট্টগ্রামে হাম পরীক্ষার কোনো ল্যাব নেই। রোগীদের নমুনা পাঠাতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে বিপাকে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। তবে দুর্ভোগ কমাতে সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-তে হাম পরীক্ষার সক্ষমতা যাচাই করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীরের লালচে ফুসকুড়িসহ হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বিভিন্ন বয়সী শিশু। এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের হাম শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু।
এতে করে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদেরও। তবে বিভাগীয় শহর হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে নেই হাম পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা। নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হচ্ছে ঢাকায়।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মুসা মিয়া বলেন, যেহেতু একটি বড় আউটব্রেক হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে আরও ডিসেন্ট্রালাইজেশন প্রয়োজন হতে পারে। হয়তো আরও ল্যাব স্থাপন করা গেলে এ ধরনের ক্ষেত্রে দ্রুত নির্ধারণ করা যাবে—এটি মিজেলস কি না, কিংবা অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণ কি না।
তিনি আরও বলেন, কোনো মহামারি বা দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে কি না, তা আগেভাগে শনাক্ত করার পাশাপাশি ভ্যাকসিনেশন নিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা করার জন্যও হাম ভাইরাস শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত জনবল ও টেকনিক্যাল দক্ষতা রয়েছে। কর্মরত চিকিৎসকরাও এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সক্ষম। তবে প্রয়োজনীয় কিটস ও রিএজেন্টসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ না থাকলে এসব কার্যক্রম সম্পাদন করা সম্ভব হয় না।
অন্যদিকে, বিআইটিআইডি’র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমেদ বলেন, এখানে বিএসএল-২ প্লাস এবং বিএসএল-৩ অর্থাৎ বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবরেটরি রয়েছে, যা আমরা বলতে পারি বাংলাদেশে একমাত্র কার্যকর বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবরেটরি। বর্তমানে চলমান হাম বা মিজেলস রোগ নির্ণয়ের জন্য আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।
আরও পড়ুন:








