সোমবার

৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৬ চৈত্র, ১৪৩২

রাজশাহী বিভাগে হামের সংক্রমণ ৩১ শতাংশ ছাড়াল, চার শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৯

শেয়ার

রাজশাহী বিভাগে হামের সংক্রমণ ৩১ শতাংশ ছাড়াল, চার শিশুর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী বিভাগে হামের সংক্রমণের হার বেড়ে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা জেলায় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। গত তিন মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। গত ২৬ মার্চ পর্যন্ত নেওয়া এসব নমুনায় সংক্রমণের হার ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর আগে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩ জনের নমুনায় সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। আট দিনের ব্যবধানে সংক্রমণ বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান জানান, গত তিন মাসে ৬০০-এর বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৭২ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হামের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, নয় মাসের নিচে বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা না নেওয়াই এ রোগের প্রকোপ বাড়ার প্রধান কারণ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে আড়াই গুণ। ৫৭১ জন রোগীর মধ্যে ২৩১ জন শিশু, যার মধ্যে ৭১ জন হামে আক্রান্ত। হামের সংক্রমণ রোধে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে হাসপাতালে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

পাবনায়ও হামের রোগী বাড়ছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে। গত সাত দিনে জেলায় ২৩ জন এবং ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ১১৮ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জনের বয়স তিন থেকে ১২ মাস।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান জানান, শিশু ওয়ার্ডের সক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি থাকায় ওষুধসহ কিছু সংকট রয়েছে। হামের রোগীদের জন্য নতুন একটি ওয়ার্ড চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। নয় মাস বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় টিকার বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হামের রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় এই প্রকোপ মোকাবিলায় কাজ চলছে।



banner close
banner close