রবিবার

২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে নতুন প্রকল্প নিয়েছে ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১২

শেয়ার

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে নতুন প্রকল্প নিয়েছে ওয়াসা
ফাইল ছবি

ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে প্রায় ৯২০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়ানো হবে। সংস্থাটি সম্প্রতি ‘ঢাকা শহরের জরুরি পানি সরবরাহ’ শীর্ষক এ প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। বাস্তবায়নাধীন ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহের দুটি বড় প্রকল্প প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, নতুন ৬২টি গভীর নলকূপ স্থাপন ও ৪৫০ সেট পাম্প মোটর সরবরাহের কাজ করা হবে। এতে দৈনিক ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৫৫৩ কোটি টাকা ঋণ ও ৩৬৮ কোটি টাকা অনুদান থেকে আসবে।

বর্তমানে ঢাকার প্রায় ৬৫ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ঢাকার পানির স্তর প্রায় সাত ফুট নিচে নেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, এভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে তীব্র পানি সংকট দেখা দিতে পারে।

ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী শওকত মাহমুদ জানিয়েছেন, মেঘনা নদী থেকে পানি সরবরাহের মতো বড় প্রকল্পগুলো শেষ হতে আরও কয়েক বছর লাগবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে পানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতেই এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

প্রসঙ্গত, ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ বাড়াতে ২০১৩ সালে মেঘনা নদীর পানি শোধনাগার প্রকল্প নেয় ওয়াসা। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। অপর প্রকল্প সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশের মতো, যেখানে প্রকল্প ব্যয় ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে প্রকল্পটি মূল্যায়ন কমিটির সভায় অনুমোদন পেয়েছে। কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রায়ই দেখা যায়, বিশেষত বিদেশি ঋণ ও অনুদানে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড়ের জটিলতা ও অন্যান্য কারণে এসব প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে থাকে। এই প্রকল্পটি জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহের বড় প্রকল্পগুলো কার্যকর না করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া যৌক্তিক নয়। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে টেকসই সমাধানের পথে বাধা হিসেবে অভিহিত করেছেন।



banner close
banner close