বৃহস্পতিবার

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

চাঁদপুরে চার শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:১৫

শেয়ার

চাঁদপুরে চার শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান
ছবি: বাংলা এডিশন

ক্লিন চাঁদপুরের সহযোগিতায় এবং রোটারি ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রালের আয়োজনে শহরের চার শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

এতে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তারা হলেন—ডা. মিজানুর রহমান, ডা. পীযুষ সাহা, ডা. মো. ওলিউর রহমান, ডা. ইফতেখার উল আলম, ডা. সাইফুল ইসলাম সোহেল, ডা. বিশ্বনাথ পোদ্দার, ডা. রাশেদা আক্তার, ডা. দিলশান নাহরিন ইলমা এবং ডা. নাজমুন্নাহার।

চিকিৎসা নিতে আসা হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত থাকলেও চিকিৎসা সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা বলেন, ‘রোটারি ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রাল ও ক্লিন চাঁদপুরের এই আয়োজনে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা নিয়ে ভালো চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, ‘আমরা এ ধরনের সেবা আগে কখনো পাইনি। যদি এই উদ্যোগ নিয়মিতভাবে নেওয়া হয়, তবে অসচ্ছল পরিবারগুলো চিকিৎসা সেবা পেয়ে অনেক উপকার পাবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান আব্দুল্লাহ আল মামুন, পিপি শেখ মনির হোসেন বাবুল, পিপি ও ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নূরুল আমিন খান আকাশ, পিপি আব্দুল বারি জমাদার, পিপি আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী, পিপি শরীফ মোহাম্মদ আশরাফুল হক, রোটারিয়ান শফিউল্লাহ হায়দার, রোটারিয়ান কামাল হোসেনসহ ক্লাব ও ক্লিন চাঁদপুর পরিবারের সদস্যরা।

চিকিৎসক দল জানায়, ‘হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় চার শতাধিক সদস্যকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। তারা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেন। তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই আমাদের এই আয়োজন।’

দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক এবং প্রশংসনীয়। সমাজের অন্যরাও এভাবে এগিয়ে এলে মানবতার সেবা আরও বিস্তৃত হবে। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও অনেকেই সঠিক সেবা পায় না, তাই এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানবতার কল্যাণে কাজ করা মানুষরাই প্রকৃত সমাজ পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক। হরিজন সম্প্রদায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে যারা এই সেবা দিয়েছেন, তারা সত্যিই ধন্যবাদ ও প্রশংসার যোগ্য।’



banner close
banner close