কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতালে রবিবার সকাল ১১টার দিকে জলাতঙ্ক ও সাপে কাটা রোগীর অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে আহত রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। আগত রোগীদের বড় একটি অংশ কুকুর ও শেয়ালের কামড় বা আঁচড়ের শিকার, এবং কিছু রোগী সাপে কাটার আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা (অ্যান্টিরেবিস ভ্যাকসিন) দেয়ার কাউন্টার এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সামনে উপচে পড়া ভিড়। রোগীদের বেশিরভাগই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু, কিশোর ও বয়স্ক ব্যক্তি। কারও পায়ে, কারও আবার হাতে কুকুরের কামড়ের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
এমনই একজন ভুক্তভোগী শিশু কাউন্টারে বসে ব্যথায় ছটফট করছিল (ছবিতে দৃশ্যমান)। তার হাঁটুতে ও পায়ে কুকুরের কামড়ের স্পষ্ট দাগ দেখা যায়। তার অভিভাবকরা জানান, সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় একটি হিংস্র কুকুর তাকে আক্রমণ করে কামড়ে আহত করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কুকুরে কামড়ানো ও সাপে কাটা অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে বিগত কয়েকদিনের তুলনায় আজ এই ধরনের রোগীর চাপ কিছুটা বেশি।
রোগীদের ভিড় ও উদ্বেগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, জলাতঙ্ক অত্যন্ত মারাত্মক একটি রোগ হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। জলাতঙ্ক ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে এবং আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে দ্রুত টিকা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের পশুর কামড় বা সাপে কাটার ঘটনা ঘটলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে সম্পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







