ঢাকা ২০ আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত কলেজের পাশে বাসে আগুন সহ পোশাক কারখানার শ্রমিক পরিবহনে ব্যবহৃত থেমে থাকা তিনটি বাসে টানা তিন রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত পৃথক স্থানে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে৷
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতে সড়ক ও অনিরাপদ স্থানে গাড়ি না রেখে মালিকের নিজস্ব হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বাসমালিকেরা সেই পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পরিবহন মালিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ডের একটি গ্যারেজে, শুক্রবার রাতে শ্রীরামপুর বাসস্ট্যান্ডে এবং শনিবার রাতে শরীভবাগ এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। টানা তিন রাতে তিনটি বাসে আগুন দেয়ায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শরীভবাগ আফাজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের পাশে ও শ্রীরামপুর বাসস্ট্যান্ডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো প্রাথমিকভাবে নাশকতামূলক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকার অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শ্রীরামপুরে পুড়ে যাওয়া বাসের চালক সাজ্জাদ জানান, সন্ধ্যায় এক অপরিচিত ব্যক্তি তার মালিক শহীদুলের বাসটি কোনটি, তা জানতে চান। পরে রাতেই বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। তার ধারণা, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বাসের মালিক ও সূতিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
শরীভবাগে পুড়ে যাওয়া বাসের মালিক লুৎফর রহমান বলেন, ২০-২৫ বছর ধরে সেখানে গাড়ি রাখছি, কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ বাসে আগুন দিতে পারে ভাবিনি৷ রাতে সড়কে গাড়ি রাখতে নিষেধ করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়ি রাখব কোথায়? প্রশাসন নিষেধ করেই দায়িত্ব শেষ করে।
এ বিষয়ে ধামরাই পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.স্বপন বলেন,আমি তো জানিই না পৌরসভার ভিতরে মহাসড়কের পাসে গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি দুদিন পড়ে এখন বলেন খবর নিয়ে দেখবেন আসলে আগুন ধরেছে কিনা।
পৌর বিএনপির ভারপাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা আওয়ামী লীগের লোক ছাড়া অন্য কারও কাজ নয়। পালিয়ে যাওয়া নেতাদের ওর্ডারে দেশে অরাজকতা তৈরি করতেই এধরনের কাজ করে যাচ্ছে তারা৷
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, সড়ক ও অনিরাপদ স্থানে গাড়ি না রাখা এবং গ্যারেজে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ মালিকপক্ষকে অবহিত করেছে। তবে পরামর্শ উপেক্ষা করে খোলা ও অনিরাপদ স্থানে গাড়ি রাখায় অগ্নিসংযোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে কারা অগ্নিসংযোগ করছে, তা শনাক্ত করতে পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন:







