রবিবার

৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩

পটুয়াখালীতে দুই সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

পটুয়াখালী,প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৭

শেয়ার

পটুয়াখালীতে দুই সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
ছবি: বাংলা এডিশন

পটুয়াখালীতে রামদা, চাপাতি ও লোহার পাইপ নিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি ও পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্য রাজীব দেবনাথ এবং দৈনিক আজকের খবরের সাংবাদিক ইয়াহিয়া শাকুর। তাঁরা বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সাংবাদিক রাজীব দেবনাথের অভিযোগ, স্থানীয় হাসান মোল্লা ওরফে ঘাউরা হাসান ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো রামদা, চাপাতি এবং লোহার পাইপ নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় রাজীবের মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। অন্যদিকে ইয়াহিয়া শাকুরের ডান হাতের কব্জিতে রামদার কোপে গুরুতর জখম হয়।

রাজীব দেবনাথ জানান, হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি আগেই মুঠোফোনে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। হামলাকারীরা তাঁদের আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে চলে যাওয়ার পর সহকর্মী ও স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

রাজীবের দাবি, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এর আগেও অভিযুক্ত হাসান মোল্লা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আগের ঘটনার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এবার আবারও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া হামলার আগে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামানকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রাজীব। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মুঠোফোনে ওসি তাঁকে বলেন, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেই তো তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পটুয়াখালী হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আহত দুই সাংবাদিকের অভিযোগ, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। এতে তাঁরা পুনরায় হামলার আশঙ্কা করছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, আহত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।