ঝিনাইদহের শৈলকুপা শাহী মসজিদের আয়-ব্যয় নিয়ে ৬১ লাখ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে মসজিদটির মোতাওয়াল্লী মীর শামসুজ্জামান পান্না। তার দাবি, গত ২৫ মাসে মসজিদের মোট আয় হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৫৮১ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৫ টাকা। হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে মসজিদের তহবিলে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৮৫৬ টাকা। শনিবার দুপুর ২টায় শৈলকুপা শাহী মসজিদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মীর শামসুজ্জামান পান্না জানান, তিনি শৈলকুপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মসজিদের প্রতিটি আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ করে আসছেন। এসব হিসাব বাংলাদেশ ওয়াক্ফ স্টেটের অডিট ইন্সপেক্টরের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। অডিট টিম হিসাব পর্যালোচনা করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংবাদে গত ২৫ মাসে মসজিদের আয় ৬১ লাখ টাকা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, এর অর্ধেক খাদেমরা নিয়েছেন এবং বাকি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই। তবে মোতাওয়াল্লীর দাবি,বাস্তব হিসাবের সঙ্গে এসব তথ্যের কোনো মিল নেই। প্রকৃত আয়-ব্যয়ের নথি যাচাই করলেই অভিযোগের অসারতা স্পষ্ট হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান,সাংবাদিকদের কাছে অডিট ইন্সপেক্টরের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত প্রতিবেদন এবং বাৎসরিক ট্যাক্স প্রদানের কপি সরবরাহ করা হয়েছে। এসব নথি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ব্যয় নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন মোতাওয়াল্লী। তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদের সীমানায় থাকা ১১টি ছোট-বড় মেহগনি গাছ বিক্রি করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি মুসল্লিরা অনুদান দেন ২ লাখ ১২ হাজার টাকা। এসব অর্থসহ প্রাচীর নির্মাণকাজে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকা। তবে নির্মাণসামগ্রীর আরও ৩২ হাজার ১৩৫ টাকা পরিশোধ বাকি রয়েছে।
এদিকে মসজিদের ইমামের কাছ থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। প্রকৃত ঘটনা জানতে উপস্থিত ইমাম ও খাদেমদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান। তার দাবি,খাদেমদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমেই মসজিদের বিভিন্ন ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়ার ওয়াক্ফ হিসাব নিরীক্ষক মো. নাজমুল হাসান জানান,ইসি নং-১১৩৮,বাদশা হুসাইন শাহ ও/এ, শৈলকুপা, ঝিনাইদহের বিগত ও চলতি অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা করে কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি।
নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে মীর শামসুজ্জামান পান্না বলেন, একটি মহল তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন:







