শনিবার

৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩ কার্তিক, ১৪৩৩

ঢাকা-গাজীপুর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট; ভাঙা-গড়ার খেলা!

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৩

শেয়ার

ঢাকা-গাজীপুর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট; ভাঙা-গড়ার খেলা!
ছবি সংগৃহীত

১৪ বছর ধরে চলা ঢাকা-গাজীপুর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের নকশাগত ত্রুটি ও বাস্তবায়ন জটিলতার কারণে, এর অবকাঠামো সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ছয় লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তথ্য বলছে, এই মেগা প্রজেক্টের পেছনে ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা। দেশের সাধারণ মানুষের ঘামঝরানো করের এমন বিশাল অঙ্কের অর্থ খেসারত হিসেবে জলে ভেসে যাওয়ার এই ঘটনাকে বিরল এবং অপূরণীয় জাতীয় অপচয় বলছে বিশেষজ্ঞরা। আর অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, দুর্নীতি আর চরম দায়িত্বহীনতা গ্রাস করেছিল পুরো প্রকল্পকে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ও দাপ্তরিক নির্দেশ

রবিবার (১৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে, বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির স্বাক্ষরিত দাপ্তরিক চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআরটি করিডরের মাঝের স্টেশন ও লেন বিভাজক সম্পূর্ণ অপসারণ করে, দু'পাশে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে এবং প্রকল্পের আওতাধীন দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করা হবে।

পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে 'ঢাকা র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি' কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে, এর সমস্ত কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত করা হবে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

দীর্ঘ এক যুগের প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে কাগজে-কলমে তৎপরতা শুরু হলেও জনমনে উঠছে বড় প্রশ্ন, জনগণের কষ্টের অর্থ ও সময়ের এই বেহিসাবি অপচয়ের মূল দায় শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে বর্তাবে? মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশায় এমন বড় ত্রুটি কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

এছাড়াও, এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অনেকেই।

দায়িত্ব হস্তান্তর ও প্রাথমিক পরিকল্পনা

অন্যদিকে, সরকার সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দায়িত্ব দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা এখনো হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ।

তবে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঝের স্টেশনগুলো বাদ দিয়ে পুরো পথজুড়ে বসানো হতে পারে 'নিউ জার্সি ব্যারিয়ার'। এতে সড়কের দু'পাশে তিন লেন করে মোট ছয় লেনের যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানান গাজীপুর সড়ক বিভাগের এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

১৪ বছরের জনদুর্ভোগ আর হাজার কোটি টাকার অপচয়ের পর বিআরটি প্রকল্পের এই করুণ পরিণতি প্রমাণ করে, জবাবদিহিতাহীন পরিকল্পনা রাষ্ট্রীয় সম্পদ তছরুপের পাশাপাশি জনজীবনকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলে। ভবিষ্যতে অপচয় বন্ধ করে টেকসই ও জনবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।