শুক্রবার

৬ নভেম্বর, ২০২৬ ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

প্রান্তিক কৃষকের আট টাকার লাউ ঢাকায় ৫০ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫২

শেয়ার

প্রান্তিক কৃষকের আট টাকার লাউ ঢাকায় ৫০ টাকা!
ছবি সংগৃহীত

বাজারে ঢুকলেই বোঝা যায়, পকেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। একসময় যে টাকায় মিলত সপ্তাহের বাজার, এখন তাতেই মেলে না এক দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। স্বাচ্ছন্দ্যে বাজার করা তো দূরের কথা, সংসারের জরুরি চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আয় বাড়েনি, তবে ব্যয়ের খাতা যেন দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিনই। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে সংসার চালানোর হিসাব মেলাতে গিয়ে ক্রমেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ছে সাধারণ ক্রেতারা।

শীতের বাজারে দাম কমছে না

শীতের মৌসুম মানেই বাজারজুড়ে নানা ধরনের শীতকালীন সবজির সমারোহ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, শিম, টমেটোসহ হরেক রকম সবজিতে ভরে ওঠে দৈনন্দিন বাজার। এ সময়ে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় সাধারণত দাম কমার কথা থাকলেও, বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও এসব সবজির দাম অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে, মৌসুমি সবজিতেও মিলছে না স্বস্তির নিঃশ্বাস।

গাজর ১৪০, টমেটো ১৫০, শিম ৮০, ঢেঁড়স ও পটল ৭০ টাকা কেজি এবং লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় এসব পণ্য কিনতেও এখন বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

কৃষক পাচ্ছে না ন্যায্য মূল্য

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাপণ্যের আকাশছোঁয়া চড়া মূল্য থাকলেও অন্যদিকে গ্রামগঞ্জ ও জেলা-উপজেলার পাইকারি বাজারগুলোতে উঠে আসছে তার বিপরীত চিত্র। কৃষকদের অভিযোগ, রাজধানী ও শহরগুলোতে মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং সাধ্যাতীত দামে কাঁচামাল বিক্রি হলেও তাঁরা নিজেরা পাচ্ছে না উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্যটুকুও।

এমনকি যে লাউ রাজধানীতে ৫০ টাকা পিস করে বিক্রি হচ্ছে, সেই লাউই কৃষকদের কাছ থেকে মাত্র ৮ টাকা পিস দরে পাইকারি কেনা হচ্ছে। যার কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেই জানা গেছে।

জ্বালানি সংকটে বাড়তি চাপ

এর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট। কখনো রান্নার জ্বালানি নিয়ে ভোগান্তি, কখনো জ্বালানি সংকটের প্রভাব, সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। পণ্য উৎপাদন থেকে পরিবহন, বাজারে সরবরাহ, সব পর্যায়েই এসব সংকটের প্রভাব ব্যাপক আকার ধারণ করছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

মূল্যস্ফীতির এই দুর্ভোগে দিন শেষে বাজার থেকে খালি হাতে ফেরা মানুষের সংখ্যা কত, সেই হিসাব হয়তো কোনো বাজারদরের তালিকায় লেখা থাকে না। কিন্তু মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ফুটে ওঠে সেই প্রতিচ্ছবি। একদিকে ক্রেতার নাগালের বাইরে নিত্যপণ্যের দাম, অন্যদিকে কৃষকের ঘরে উঠছে না উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য। তার ওপর গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের বাড়তি চাপ। সবমিলিয়ে বাজারের এই অস্থিরতা যেন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনকেই ক্রমশ দুর্বিষহ করে তুলছে। নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরবে কবে? সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানাই এখন সবচেয়ে জরুরি।